বন্ধুকে নিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শফিউল আলম বুলবুল (৩৬) নমে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি ওই ব্যাংকের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মিয়ারবাজার শাখায় জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। গত ১১ মে রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী দনিয়ার গোয়ালবাড়ীর মোড় এলাকায় আজিজ ভিলার একটি ফ্ল্যাট থেকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) শারীরিক পরীক্ষার পর গত বুধবার হাসপাতাল ছাড়েন ওই শিক্ষার্থী।

পুলিশ অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বুলবুল ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচার চেয়ে ঘটনার রাতেই যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযোগ জানান ভিকটিম ও তার স্বজনরা। কিন্তু মামলা না নিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে থেকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। রহস্যজনক কারণে ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে না পাঠিয়ে মেয়েটিকেও থানায় এনে ‘আটকে’ রাখা হয় দফায় দফায়। এভাবে চলে ১১ দিন।

এদিকে অভিযুক্ত শফিউল আলম বুলবুলকে পাঁচ দিন থানায় আটকে রাখার পর আদালতে না পাঠিয়ে গোপনে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এর পর গত ২৩ মে ব্যাংক কর্মকর্তা বুলবুল ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেয় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। ধর্ষণের সব আলামত প্রায় ধ্বংস হওয়ার পর মামলার বাদী ভুক্তভোগী মেয়েটিকে তারা ভর্তি করে ঢামেক হাসপাতালে।

এই বিষয়ে গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে আসামি শফিউল আলম বুলবুলকে ফের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বাদির আইনজীবী ঢাকা জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আওলাদ হোসেন মোল্লা।

আওলাদ মোল্লা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে মামলা করতে গেলে কালবিলম্ব না করে ভুক্তভোগীর মামলা গ্রহণ এবং ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় (ধর্ষণ) প্রায়ই অভিযোগ উঠছে, পুলিশই বিচার করছে- কে দোষী, কে নির্দোষ। আসামিদের ছাড় দিয়ে উল্টো হয়রানি করছে ভিকটিমদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বার্থ হাসিলের পর ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে আসামিকে। এই মেয়েটির ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে গত ২৪ মে আমরা আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

অতিরিক্ত পিপি লিখিত আবেদনে আদালতকে জানান, ঘটনার পরপরই বাদী থানায় মামলা করতে গেলে যাত্রাবাড়ী থানা মামলার এজাহারটি এন্ট্রি করেনি। তারা আসামি বুলবুলকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে। বাদী পরবর্তীতে আদালতে ও থানায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, যাত্রাবাড়ী থানা কর্তৃপক্ষ ধর্ষণ মামলাটি গ্রহণ না করে বাদির অগোচরে আসামিকে ছেড়ে দেয়। এর পর বাদী দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়ে বিভিন্ন সংস্থাসহ স্থানীয় লোকজনকে জানালে গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মামলা গ্রহণ করেন।

মামলার বাদির বড় বোন বলেন, প্রথম দিকে অভিযোগ তদন্তে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের ভূমিকা ছিল আশাব্যঞ্জক। অত্যন্ত সহানুভূতি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুরো দৃশ্যপটই পাল্টে যায়। শুধু আমরাই না, ঘটনার সাক্ষীদেরও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে দফায় দফায় নাজেহাল করা হয়। নির্যাতিতা বোনকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে তারা গোপনে ছেড়ে দেয় আসামিকে। এখন ঘটনার চিত্র ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে তারা।

আসামি শফিউল আলম বুলবুলকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানানো দাবি করে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই পর্যন্ত তদন্তে যা পাওয়া গেছে তাতে মনে হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী যে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। তবে পূর্ণ তদন্তের পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল অভিযুক্ত শফিউল আলম বুলবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া দেননি তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here