যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এস এর হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও নাট্যকর্মী সিরাজুল ইসলাম জীবন এবং তার ছোট ভাই আজিজুল হক হৃদয়ের ওপর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে থানা হাজতে চোখ বেঁধে তাদের উপর এই নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি একপর্যায়ে জীবন ও হৃদয়ের পায়ুপথে উত্তপ্ত গলিত মোমও ঢেলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় জীবনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। পরে বিকেলে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে এ নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ করেন। এরপর বিকেলে জীবনকে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে দেখতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। সে সময় দেখা যায় জীবন দাঁড়াতে পারছেন না। শরীরের পেছনের অংশে অত্যধিক নির্যাতনের ফলে রক্ত জমাট হয়ে থাকতেও দেখা গেছে। এ সময় সহকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জীবন। জানান তার ওপর চালানো অত্যাচারের বর্ণনা।

আঘাতের ক্ষত

বলেন, ‘আমাকে ও আমার ভাইকে পুলিশ বাসায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে আসে। হাজতে রাতব্যাপী নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে আমার পায়ুপথে উত্তপ্ত গলানো মোম ঢেলে দেয় পুলিশ।’

জীবনের অভিযোগ করে বলেন, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম বলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুখেকোরা। এ কারণে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা পুলিশকে ইন্ধন দেয়। এরপর পুলিশ চাঁদা দাবি করে। এ কারণে আমার ও আমার পরিবারের ওপর পুলিশ অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম জীবনের ছোট বোন মোছা পারভীন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় ৪/৫ জন পুলিশ আমাদের দোকানে যায়। সেখানে পুলিশ ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুলে। সেসময় আমার ভাই সাংবাদিক জীবন পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তারপর সদর থানা থেকে আরো দুই ভ্যান পুলিশ এনে আমার দুই ভাইকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। আমরা আটকাতে চাইলে পুলিশ আমাদেরও মারপিট করে। পুলিশ মারধোরের পাশাপাশি আমার ভাইয়ের কাছে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তারপর চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমরা দেখতে গেলে পুলিশ আমাদের থানায় ঢুকতে দেয়নি। এসময় তিনি তিনি এ বর্বরোচিত নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

সাংবাদিক জীবনকে নির্যাতন ও তার কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, এসআই রকিবুল হাসানের সাথে কথা বলেন।

সাংবাদিক জীবনের অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত নির্যাতনকারী এসআই রকিবুল হাসান।

এলাকাবাসী জানান, জীবন অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এনিয়ে প্রতিবাদ সভা ও পরে সদর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।

এসময় জেলা পুলিশের ইফতার এবং পুলিশের সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার বৃহত্তর কর্মসূচি নেয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here