বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা রোজিনা বেগম। ক্যান্সারসহ সব রোগের ‘চিকিৎসা’ করেন তিনি। তাবিজ-কবজ, ঝাঁড়-ফুক, তেল ও পানিপড়া তার মূল দাওয়া। স্বপ্নে মক্কা-মদিনা দেখেই নাকি সমস্য সমাধানের এই উপায় পেয়েছেন তিনি। তবে উপকার পেয়েছেন এমন লোক পাওয়া ভার।

উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের রোজিনার বাড়িতে শত-শত মানুষ ভিড় জমান। চলে যান তদবির নিয়ে। রোজিনার টেবিলের সামনে তেল ও পানির বোতল থাকে। হাতে পবিত্র কোরআন। বেশিরভাগ মানুষেরই দাবি, এটা সম্পূর্ণ ধোঁকা।

রোজিনা বলেন, ‘ছয় মাস আগে মক্কা-মদিনা ও জলের পীর খোয়াজ খিজিরকে (আ.) স্বপ্নে দেখি। তিনি আমাকে তদবির (চিকিৎসা) দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তদবির দিতে চাইনি। তিনি স্বপ্নে আমাকে বলেছেন- যদি তদবির না দাও, তাহলে তোমার সমস্যা হবে। তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখান থেকে অর্জিত টাকা বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দিতে হয়।’

রোজিনা আরও বলেন, ‘আমি ক্যান্সারসহ সকল রোগের চিকিৎসা দেই। প্যারালাইসড রোগীকে চিকিৎসা দিলে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়। পবিত্র কোরআনের আয়াত দিয়ে ঝাঁড়-ফুক, তৈল ও পানি পড়া দেই। এতেই আল্লাহ ভালো করেন।’

কোরাআন পড়তে পারেন কি-না জানতে চাইলে রোজিনা বলেন, ‘আগে পারতাম না। এখন একটু একটু পারি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের মো. সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী রোজিনা বেগম দীর্ঘদিন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে স্বপ্ন দেখার দাবি করে রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোগী প্রতি রোজিনা সম্মানী নেন ১২০ টাকা। তিনি ক্যান্সার, প্যারালাইসড, লিভারে সমস্যা, জন্ডিস, জ্বীন-ভুত, শরীরে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেটের চর্বি কমানো, হাঁপানীসহ সব রোগের চিকিৎসা দিতে পারেন বলে দাবি করেন। তার ওষুধ সব ‘মুসকিলের আসান’ বলে দাবি রোজিনার।

এ ছাড়া আয়না পড়া ও বাটি চালানেরর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারেন বলে দাবি করেন। করেন পশুর চিকিৎসাও। কোনো রোগী গেলেই তিনি দেবর সুমনকে বলেন, রোগীকে সুরা ফালাক ও নাস পড়ার নিয়ম বলে দিতে। এই সুমনই তার ঝাঁড়-ফুকের প্রধান সিপাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রোজিনা কোরআনকে ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা কামাচ্ছেন। এটা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গেও জড়িত।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলাপাড়া থেকে মোমেনা বেগমসহ ১০ জন এসেছেন বিভিন্ন রোগের তদবির নিতে। জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনেছি ভালো হয়, তাই আমরাও এসেছি।’

আমতলীর চলাভাঙ্গা গ্রামের বাবুল ফরাজী বলেন, ‘সারা শরীরের ব্যাথা নিয়ে ফকির রোজিনার কাছে গিয়েছিলাম। ঝাঁড়-ফুক, তাবিজ, তৈল ও পানি পড়া দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনো উপকার পাইনি।’

চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের জুয়েল বলেন, ‘হারানো সোনার চেইন খুঁজে বের করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফকির রোজিনা আয়না পড়ার নামে ধোঁকা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ‘ঝাঁড়-ফুক দিয়ে চিকিৎসা করা নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। দ্রুত প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here