কেউ লিখেছেন অনুপ্রেরণার আরেক নাম মঞ্জু দেবী। আবার কেউ বা লিখেছেন, আমাদের যে কোনও পরিস্থিতিতেই হার না মানার পাঠ দিয়ে চলেছেন মঞ্জু দেবী। প্রকৃত অর্থেই তিনি অনুপ্রেরণার আরেক নাম- মঞ্জু দেবী। ভারতের উত্তর-পশ্চিম রেলের প্রথম এই মহিলা কুলির কাছে এভাবেই শ্রদ্ধায় মাথা নুয়িয়েছে মানুষ।

যতই আমরা ‘জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি’ নিয়ে গলা ফাটাই, যতই মহাকাশ জয় করে ফিরুন কোনও মহিলা। সবকাজ যে মেয়েদের জন্য তা চোখে আঙুল দিয়ে বারবার দেখিয়ে দেয় সমাজ। কিন্তু সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মত মনের জোরও যে কোনও কোনও মেয়ের থাকে মঞ্জু দেবী তার উদাহরণ। রাজস্থানের জয়পুর স্টেশনে অনেকেই দেখেছেন তাকে। বাকিরা তাকে চিনেছেন গুগলের সার্চবারে মঞ্জু দেবী লিখে।

ভারী বোঝা বওয়া এখন মঞ্জু দেবীর বাম হাতের খেল

দশ বছর আগে স্বামী মহাদেবকে হারান। মহাদেবও মালবাহকের কাজ করতেন। রেলের লাইসেন্সও ছিল। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার পেশাকেই কাঁধে তুলে নেন এই সাহসিনী। ঘরে তিন তিনটে ছোট বাচ্চা। তাদের খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনা-সব দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন।

প্রথম প্রথম স্টেশনের অন্য কুলিরা একটু বাঁকা চোখেই দেখতেন। একটা মেয়ে আর কতদিনই বা এ বোঝা বইতে পারবে, ভেবেছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে যে বোঝা মঞ্জু দেবী কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, এখনও হাসিমুখে তা বইছেন। সহকর্মীরাও এখন স্বাভাবিক ব্যবহারই করেন। গাছতলায় আর পাঁচজন পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে বসেই জিরিয়ে নেন অবসর সময়ে। অন্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টেনে নিয়ে যান যাত্রীদের মালবোঝাই ব্যাগ। তিরিশ কেজি ওজনের ব্যাগ তোলা এখন তার কাছে বাম হাতের খেলা।

ছেলে মেয়েদের সঙ্গে মঞ্জু দেবী

বাকিদের সঙ্গে তালমিল রেখেই নিজের পোশাক ঠিক করে নিয়েছেন। লাল কুর্তা, কালো সালোয়ার, লাল ওড়না। ডান হাতে সাদা দড়িতে বাধা রেলের ব্যাজ। সব শিফটেই কাজ করতে অভ্যস্ত। দিনে একবার পরিবারের সঙ্গে দেখা হলেই হল।

মঞ্জু দেবীর বলেন, ‘কোনও কাজই শক্ত নয়। নারী, পুরুষ সকলেই এক্ষেত্রে সমান।’ তিনি বিশ্বাস করেন, মেয়েদের সব সময় সবরকম পরিস্থিতির জন্যই তৈরি থাকতে হয়। দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যেতে হয়।

কাজের ফাঁকে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে বিশ্রাম

মনের জোর শরীরের জোরের থেকে কোনও অংশে কম নয়। বরং মনে সাহস থাকলে শরীরও সমর্থন দেয়। লড়াই করার শক্তি মেলে। মঞ্জু দেবী সেই সত্যিটাই তুলে ধরছেন দেশবাসীর কাছে। যে মেয়ের সকাল সন্ধে কাটত ঘরকন্নায়। দু’হাতে সে-ই এখন অনায়াসে তুলে নেন দুনিয়ার বোঝা। এমন সোনার মেয়ে ঘরে ঘরে জন্মাক। অনুপ্রেরণা দিক সমাজকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here