স্যানিটারি ন্যাপকিন এখনো নাকি তাদের কাছে বিরল এক জিনিস। তাই মাসিক বা পিরিয়ডের দিনগুলিতে আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলের মেয়েরা নাকি এখনো ব্যবহার করে পুরনো কাপড়, গোবর কিংবা গাছের পাতা! আন্তর্জাতিক ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন’ দিবসে উঠে এসেছে এই চিত্র।

এ যেন আদিম যুগে পড়ে থাকা! তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন এখনও অনেক মূল্যবান। সারা মাসে সামান্য সেই টাকাও জোটে না, যাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনা যায়! তাই আফ্রিকার গ্রামাঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া বালিকারা নিজেদের জন্য বেছে নেয় পুরনো কাপড়, গোবর অথবা গাছের পাতা। আর এ সমস্যার একটা সহজ সমাধান হলো স্কুল কামাই করা! ভারত, বাংলাদেশের মতো আফ্রিকাতেও তাই ছাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই স্কুল কামাই করা বা স্কুলছুটের সংখ্যাটা চোখে পড়ার মতো থাকে।

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলিতে আর্থিক কারণে এখনও মহিলারা কাপড় বা প্রাকৃতিক জিনিসে সুরক্ষা খোঁজেন। ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন’ বা মাসিকের দিনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণাটাই তাদের নেই। বিশ্বে উল্লেখযোগ্য হারে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের বৃদ্ধির তথ্য তাদের জানা নেই। কিন্তু সঠিক ধারণা বা তথ্য জানা থাকলেও পিছিয়ে থাকা চিন্তাভাবনা আর অজ্ঞতার জন্য সমাজে স্যানিটারি ন্যাপকিন এখনও মেয়েদের মধ্যে গৃহীত হয়নি। আর তাই আন্তর্জাতিক ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন’ দিবসে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার, নাগরিক সমাজ এবং ব্যবসায়ীরা আফ্রিকার এই অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত মেয়েদের স্যানিটারি সমস্যা দূর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রতিনিধি লানগেলানি শিলুবানে মনে করেন, মহিলাদের পিছিয়ে পড়ার কারণটাই হচ্ছে মাসিক সমস্যার যথেষ্ট সমাধান না থাকা। তার মতে, পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ২৫ লাখ মেয়ে। এদের অনেকেই স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারে না আর্থিক কারণে, তাই স্কুল কামাই করে। কিন্তু তিনি মনে করেন, এ সমস্যা থেকে বেরোতে তাদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে।

সহজলভ্য করতে হবে স্যানিটারি ন্যাপকিন

জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিকের মতো গরিব দেশগুলিতে মেয়েদের অনেকেই মাসিকের সময় এখনো পুরনো তোয়ালের টুকরো ব্যবহার করে থাকেন। তবে সে ক্ষেত্রে সমস্যার খুব একটা সমাধান হয় না। সমাধান খুঁজতে এরা বেছে নেন ভিন্নতর পদার্থ, যা আধুনিক বিশ্বে অনেকে ভাবতেই পারবেন না। ওইসব দেশগুলিতে মহিলারা এখনো গোবর বা গাছের পাতাকে ব্যবহার করেন মাসিকের দিনগুলিতে।

ভারত বা বাংলাদেশের মতো আফ্রিকারও ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে আজও প্রচুর অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কার এই ব্যাপারটিতে ইন্ধন জুগিয়ে এটা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে বাধা দেয়। দক্ষিণ ভারতের অরুণাচলম মুরুগনন্থমের সস্তায় স্যানিটারি প্যাড তৈরি মহিলাদের আর্থিক সামর্থ্য বাড়ালেও সমাজে কতটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলে। সমাজের নেতিবাচক মনোভাব যে মেয়েদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে, তাতে দ্বিমত নেই।

এ প্রসঙ্গে জোহান্সবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার নারী উন্নয়ন মন্ত্রী বাথাবাইল ড্লামিনি বলেন, ‘মাসিক সমস্যার সমাধান নিয়ে রীতিমতো সম্মেলন করা উচিত, যাতে সামাজিকভাবে তা গৃহীত হয়। এমনিতে সমাজের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকা রয়েছে এ ক্ষেত্রে। স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থের কথা বাদ দিলেও সমাজের ট্যাবুর জন্য মহিলারা তা ব্যবহার করতে পারেন না।’

জার্মান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াশ ইউনাইটেড এর উদ্যোগে শুরু হয় ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন’ দিবস। এই সংগঠনের পক্ষে ইনা জুর্গা বলেন, ‘আমরা কমপক্ষে ২৪টি আফ্রিকান দেশের কথা জানি, যেখানে এই দিনটি পালিত হয়। বেনিন থেকে কিরিবাটি এবং চাদ থেকে জিম্বাবুয়ে সর্বত্রই।’

তার মতে, কেনিয়ার গ্রামাঞ্চলে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মহিলা মাসিকের দিনগুলিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন না। উগান্ডাতে ৭০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে পড়তে পড়তে পিরিয়ডের মুখোমুখি হয়ে স্কুল কামাই করে। খবর ডয়চে ভেলের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here