যৌতুক চেয়েছিলেন, পাননি। তাই স্ত্রী সেতারা বেগম (২২) ও একমাত্র কন্যা নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে তাদের লাশ গুম করেছেন রফিকুল ইসলাম। এমন অভিযোগে গত বছরের ৫ মে রফিকুল ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সেতারার বাবা নবী হোসেন।

এর প্রায় ১৩ মাস পর ‘হত্যার পর গুম’ হওয়া সেতারা ও শিশু নুসরাতকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেইট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তারা ছিল।

কক্সবাজার পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সেতারার বাবা মামলা করার পর তা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ তদন্তকালে জানা যায়, সেতারা ও নুসরাতকে হত্যা করা হয়নি, তারা জীবিত। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে টানা তিন দিন অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত পতেঙ্গা স্টিল মিলবাজার এলাকার টিএসপি গেটের একটি ভাড়া বাসায় তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।

কক্সবাজার পিবিআই অফিসে শনিবার সকালে উদ্ধারকৃত সেতারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা কারণে তাকে নির্যাতন করা হতো। সামান্য ঘটনায়ও স্বামী রফিকুলসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা সেতারাকে ভীষণ মারধর করতেন। এ অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে সবার অজান্তেই তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। এর পর কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে বাসা ভাড়া করে কন্যাসহ বসবাস করতে শুরু করেন।

তাদের হত্যার পর গুম করার অভিযোগে রফিকুল ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রসঙ্গে সেতারা বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানতাম না। কারণ বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না আমার।’ তার অনুপস্থিতির সুযোগে রফিকুল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, জানতে পেরে সেতারা স্বামীর কাছেও আর ফিরে যাননি বলে জানান।

আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০১১ সালের ২২ জুলাই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ার সেতারা বেগমকে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন একই এলাকার রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তিনি স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করেন। তাদের সংসারে নুসরাত জাহান মিতু নামে ছয় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ মে ব্যবসায়ের জন্য রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী সেতারা বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন। সেতারা তার বাবাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু হঠাৎই তারা হারিয়ে যান। এদিকে নিজ সন্তান ও নাতনীকে না পেয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ এনে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন নবী হোসেন।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তদন্তে কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। তবে শিগগিরই সেতারা বেগম ও তার শিশু কন্যাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here