জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের গ্রেফতার নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। সুরকার শফিক তুহিনের করা আইসিটি আইনের মামলায় গতকাল রাতে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। দেশের সংগীতাঙ্গনের এই দুই জনপ্রিয় মানুষের মধ্যে এমন তিক্ততার বিষয়টি কোনোভাবেই ভালোচোখে দেখছে না সাধারণ মানুষ। অনেকেই জানতে চাইছেন, সত্যিই ওই রাতে ফেসবুক লাইভে কী বলেছিলেন আসিফ।

আসিফের গ্রেফতার নিয়ে আজ সকাল থেকেই তার অনেক ভক্ত ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। অনেকেই লিখছেন, আসলে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শফিউল আলম নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, আসিফ যে স্ট্রেইট ফরোর্য়াড কথা বলেন তার আরেকটি প্রমাণ পেল মিডিয়া। সরাসরি কঠিন সত্যটা বলার মত সৎ সাহস সবার থাকেনা। জেদ চেপে না রাখা ও গোপনে মন্দ না বলার জন্য ধন্যবাদ ভাই। এগিয়ে যান নিজ উন্মাদনায়।

জহিরুল ইসলাম সালো নামে আরেকজন লিখেছেন, একটা পর একটা হিট গানে যখন যুবরাজের গানের রাজত্ব আরো অনেক বেশি বিস্তৃত হচ্ছেন তখন ভাতে মরা এই মানুষ গুলো তার পিছে উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমান প্রেক্ষপটে তারা যখন কর্ম ও অন্নহীন হয়ে যাচ্ছে, তখন আসিফ আকবরের গরম ভাতে তাদের পেট জ্বালা করছে।

আবার আরেকদল সুরকার শফিক তুহিনের পক্ষ নিয়েছেন। তারা বলছেন, অন্যের সৃষ্টি তাকে না বলে বিক্রি করা জঘন্য অপরাধ। তাই আসিফের শাস্তি হওয়া উচিত। এছাড়া শফিক তুহিনকে তিনি প্রকাশ্যে যেভাবে হুমকি দিয়েছেন তার জন্য আসিফের শাস্তি পাওনা।

মামলার এজাহারে শফিক তুহিন অভিযোগ করেন, গত ১ জুন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রা. লি. কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লি. গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লি. ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

পরে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। এদিকে শফিক তুহিন ফেসবুকে এমন অভিযোগ করার কিছুক্ষন পরেই তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ‘অশালীন মন্তব্য’ করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘হুমকি’ দেন বলে অভিযোগ করেন শফিক তুহিন ।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, পরের দিন রাত ৯ টা ৫৯ মিনিটে আসিফ আকবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। ৫৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড লাইভ ভিডিওর ২২ মিনিট থেকে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন।

শফিক তুহিন আরও অভিযোগ করে বলেন, ভিডিওতে আসিফ তাকে শায়েস্তা করবেন এ কথা বলার পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, তাকে যেখানেই পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন। এই নির্দেশনা পেয়ে আসিফ আকবরের ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। আসিফ আকবরের এই বক্তব্য লাখ লাখ মানুষ দেখেছে। তিনি উসকানি দিয়েছেন। এতে তার মানহানি হয়েছে। বিষয়টি সংগীতাঙ্গনের সুপরিচিত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার প্রীতম আহমেদসহ অনেকেই জানেন বলেও উল্লেখ করেছেন শফিক তুহিন।

এর আগে গত শনিবার, দুপুরে আসিফের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ করে স্ট্যাটাস দেন শফিক তুহিন। গানের কপিরাইট সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রের ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

এর আগে এই ঘটনা নিয়ে প্রীতম আহমেদ, শফিক তুহিন ও রবিউল ইসলাম জীবন- গানের জনপ্রিয় এই তিনজনকে বয়কট করেন গায়ক আসিফ আকবর। সেইসঙ্গে যে সব কোম্পানি এই তিন গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীর সঙ্গে কাজ করবেন সে কোম্পানির জন্য কোনো গান গাইবেন না বলেও জানিয়ে দেন আসিফ আকবর।

গত শনিবার রাত ১০টায় আসিফ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে তার নতুন গানের খবরা খবর জানান। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গানের মাধ্য কোটি কোটি টাকা আয় করে তা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেন।

আসিফ তার ভিডিওতে প্রীতম ও শফিক তুহিনদের সমালোচনা করে বলেন, ‘গানের আঙিনা সুন্দর মানুষদের জন্য। এখানে কোনো নর্দমার কীট রাখা যাবে না। সিটি করপোরেশন দিয়ে সেইসব কীট পরিষ্কার করা হবে। প্রীতম মিথ্যেবাদি, প্রতারক। সে দাবি করে চ্যানেল আইয়ের প্রযোজক সে। মিথ্যে কথা। মিথ্যে পরিচয় দিয়ে সে মানুষকে ঠকায়। আর শফিক তুহিন কৌশলী। আমার হাত দিয়ে তার উত্থান। আমার সঙ্গেই বেঈমানী করে বেড়াচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাকে অভিযুক্ত করছে। এ ধরনের ক্ষতিকরদের থেকে সবার সাবধান থাকা উচিত। আর রবিউল ইসলাম জীবন এই সেদিন প্রথম রোজার দিনও আমার বাসায় ইফতার করে গেছে। সেই জীবন পল্টি নেয়। ও সবাইকে ম্যানেজ করতে করতে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে গেছে। নোয়াখালীর কলঙ্ক জীবন।’

এসময় তিনি প্রীতম আহমেদ ও শফিক তুহিনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে এর পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে এই দুজনকে অকৃতজ্ঞ বলেই তুলে ধরেন। তাদের সঙ্গে গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবনকেও অকৃতজ্ঞ অভিহিত করেন। তিনি এই তিনজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রীতম, শফিক ও জীবনের সঙ্গে কোনো কোম্পানি কাজ করলে আমি তাদের সঙ্গে কোনো কাজ করবো না। আমি মিডিয়ার সবাইকে সাবধান করতে চাই এদের ব্যাপারে।’

আসিফ বলেন, ‘আমি আট বছর গান থেকে দূরে ছিলাম। আবার ফিরে এসেছি। ছুটিয়ে কাজ করছি। এটাই সবার মাথাব্যাথার কারণ। আমার প্রতি হিংসা থেকেই মিথ্যে তথ্য দিয়ে আমাকে ছোট করা হচ্ছে। এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু এবার বাড়াবাড়িটা বেশি হচ্ছে। তাই মুখ খুলতে হলো।’

তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তরুণদের ব্যাপারে আমি সবসময় পজিটিভ ছিলাম। এই ইন্ডাস্ট্রির কোনো সিনিয়র বলতে পারবেন না কোনো জুনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য কিছু করেছেন। আমার কাছে যখন যে এসেছে আমি করেছি। তরুণদের নিয়ে গান করছি। সামনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আমি গান গেয়ে যেতে চাই।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here