আসিফ আকবর ও শফিক তুহিন দুজনেই বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। একসময় তারা খুব ঘনিষ্ঠও ছিলেন। অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই উভয় তারকার মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল এবং সেটি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে, যে মামলায় আসিফ এখন কারাগারে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয়। ওই প্রতিবেদনে শিল্পী প্রীতম আহমেদ কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করে অভিযোগ করেছিলেন, বিভিন্ন গীতিকার এবং সুরকারদের গান প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নামের স্বীকৃতি এবং আর্থিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সে তালিকায় গায়ক আসিফের নাম ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

অনুষ্ঠানটি প্রচার হওয়ার পর গায়ক শফিক তুহিন তার ফেসবুক পাতায় লিখেছিলেন, ‘গান তুমি কার? দেখুন কীভাবে মেধাস্বত্ব চুরি করে শিল্পীদের ফকির বানিয়ে একদল সংগীত দুর্বৃত্ত সম্পদের পাহাড় গড়ে।’

নিজের ফেসবুক পেজে শফিক তুহিন কিছু কাগজপত্র শেয়ার করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে গান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টিতে সাংঘাতিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আসিফ আকবর এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

৪ জুন, মঙ্গলবার আসিফ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লাইভে আসেন। ওই ফেসবুক লাইভে প্রীতম আহমেদ এবং শফিক তুহিনের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সে সময় তার ও শফিক তুহিনের ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায়ই আসিফ আকবর, শফিক তুহিন এবং প্রীতম আহমেদের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে আসে।

শফিক তুহিন ফেসবুকে অভিযোগ করেন, ‘অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি; কিছু হলে দায়ভার আসিফ আকবরের।’

এরপর আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শফিক তুহিন এবং ওই মামলায় প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার কাগজপত্রে গায়ক আসিফের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগ হচ্ছে, ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগ। সে জন্য তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। অপর অভিযোগটি হচ্ছে, শফিক তুহিনের গান নিয়ে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া। সেটি নিয়ে মেধাস্বত্ব আইনে মামলা হয়েছে।’

নজরুল ইসলাম জানান, গত ৫ জুন, মঙ্গলবার রাতে গায়ক আসিফ আকবরকে ঢাকার তেজগাঁও এলাকার স্টুডিও থেকে গ্রেফতার করা হয়।

৬ জুন, বুধবার আসিফকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফ মিতুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

আসিফ আকবরের একক অ্যালবামের সংখ্যা ৩০টি এবং মিশ্র ও দ্বৈত অ্যালবামের সংখ্যা প্রায় ৯০টি। আসিফ আকবর সংগীতজগৎ থেকে প্রায় পাঁচ বছর দূরে থাকার পর বছর দুয়েক আগে ফিরে আসেন।

এরই মধ্যে আসিফ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্যও হয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র।

অন্যদিকে, গায়ক প্রীতম আহমেদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগ আন্দোলনে বেশ সক্রিয় ছিলেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here