তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের করা মামলায় কারাকারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার সন্ধ্যায় শফিক তুহিনের করা এ মামলায় আসিফ আকবর ছাড়া আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

চ্যানেল ২৪-এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘চ্যানেল ২৪ সার্চলাইট’-এর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত ১ জুন রাতে। যেখানে ২০ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে শিল্পী প্রীতম আহমেদ কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করে অভিযোগ করেছিলেন, বিভিন্ন গীতিকার এবং সুরকারদের গান প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নামের স্বীকৃতি এবং আর্থিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সে তালিকায় গায়ক আসিফের নাম ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

অনুষ্ঠানটি প্রচার হওয়ার পর গায়ক শফিক তুহিন তার ফেসবুক পাতায় লিখেছিলেন, ‘গান তুমি কার? দেখুন কীভাবে মেধাস্বত্ব চুরি করে শিল্পীদের ফকির বানিয়ে একদল সংগীত দুর্বৃত্ত সম্পদের পাহাড় গড়ে।’

নিজের ফেসবুক পেজে শফিক তুহিন কিছু কাগজপত্র শেয়ার করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে গান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টিতে সাংঘাতিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আসিফ আকবর এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

৪ জুন, মঙ্গলবার আসিফ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লাইভে আসেন। ওই ফেসবুক লাইভে প্রীতম আহমেদ এবং শফিক তুহিনের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সে সময় তার ও শফিক তুহিনের ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায়ই আসিফ আকবর, শফিক তুহিন এবং প্রীতম আহমেদের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে আসে।

শফিক তুহিন ফেসবুকে অভিযোগ করেন, ‘অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি; কিছু হলে দায়ভার আসিফ আকবরের।’

এরপর আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শফিক তুহিন এবং ওই মামলায় প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার কাগজপত্রে গায়ক আসিফের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগ হচ্ছে, ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগ। সে জন্য তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। অপর অভিযোগটি হচ্ছে, শফিক তুহিনের গান নিয়ে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া। সেটি নিয়ে মেধাস্বত্ব আইনে মামলা হয়েছে।’

নজরুল ইসলাম জানান, গত ৫ জুন, মঙ্গলবার রাতে গায়ক আসিফ আকবরকে ঢাকার তেজগাঁও এলাকার স্টুডিও থেকে গ্রেফতার করা হয়।

৬ জুন, বুধবার আসিফকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here