পরপর দুটি ম্যাচ হেরে আফগানিস্তানের কাছে প্রথমবার সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং – এই তিন বিভাগেই আফগানদের চেয়ে কেন পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় অনেকেই নানা রকম মন্তব্য করেছেন।

দলের ভেতরে সমন্বয়ের অভাব, ক্যাপ্টেনের অমনোযোগিতা, খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ সহ্য করার শক্তির অভাব, দীর্ঘদিন ধরে হেড কোচের অনুপস্থিতি এবং বিসিবি কর্মকর্তাদের নানা ধরনের বক্তব্যকে দলের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে সবচেয়ে বেশী মন্তব্য পোস্ট হয়েছে সাকিব আল হাসানের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হয়ে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেন, এমন খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই খেলার ব্যাপারে তার আগ্রহ কমে গেছে বলে মনে করছেন বেশ ক’জন ক্রিকেট অনুরাগী।

মো. সাফায়েত হোসেন নামে একজন বলছেন, ‘সবার মাথায় নির্বাচনের মনোনয়ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার ওপর আবার রশীদের বলের ঘুরপাক। সব মিলিয়ে ম্যাসাকার অবস্থা।’

একজন ফেসবুকার সাব্বির আহমেদ ও সৌম্য সরকারকে মেয়াদবিহীন যানবাহনের সাথে তুলনা করে বলেছেন, এরা দুজনেই এখন দলের জন্য বোঝা হয়ে গিয়েছে।

তানজিল আহমেদ নামে একজন ফেসবুকার মন্তব্য করেছেন, ‘সিরিজ শুরুর আগেই সাকিব আল হাসান বলেছিলেন এই সিরিজে আফগানিস্তান ফেভারিট! আর সেটা প্রমাণও ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তার মানে হচ্ছে সিরিজ যে হারবে সেটা আমাদের অধিনায়ক জানতেন!’

আহমেদ কাউসার নামে একজন ফেসবুকার বলছেন, হার্ড হিটিং-এ দুর্বলতা বাংলাদেশ এর সব সময়ই ছিল। এটা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি।

‘ওদের যে কোনও ব্যাটসম্যান ক্রিজে এসে ৩০০ স্ট্রাইক রেটে খেলার এবিলিটি আছে। আমাদের সেটা নেই, বলছেন তিনি, ‘মোট কথা ক্লিন হিটারের অভাব আমাদের ভোগাচ্ছে। রশীদ খানের বিপক্ষে কোনও ব্যাটসম্যানই স্বাভাবিক খেলাটা খেলছে না। বলের মেরিট অনুযায়ী একদম খেলা হচ্ছে না। আর আমার মনে হয় না সাকিব দলকে যথেষ্ট চিয়ারআপ করতে পেরেছেন।’

অনেকেই বলছেন, ‘খেলাটা যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে না। খেলা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। অন্য দেশে কেউ যদি খারাপ খেলে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। দলের বাইরে থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো খেলার প্রমাণ না দিতে পারে ততোক্ষণ পর্যন্ত সে দলে আসতে পারে না।’

জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, ‘বিসিবিতে যারা আছে সবাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। খেলা নিয়ে ভাবার সময় তাদের নাই। আগে আকরাম খান কিছু বিষয়ে বলতেন। এখন তিনিও কিছু বলেন না। বাংলাদেশ দলে হাথুরু এবং মাশরাফির মতো লোক যতদিন মূল দায়িত্ব পালন করতে না পারবে ততদিন কোন উন্নতি হবে না।’

তবে মো. আহসান হাবিব নামে একজন ফেসবুকার মন্তব্য করেছেন, ‘এই সিরিজে আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ফেভারিট ছিল। তাই তারা তাদের যোগ্য সম্মান পেয়েছে। এতে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা কিংবা আফগানিস্তানকে এলিয়েন ভাবার কিছুই নাই। এভাবেই তো একটি ছোট দল বড় হওয়ার সুযোগ পাবে যা বাংলাদেশ এর আগে পেয়েছে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here