ঢাকা : ২০০২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়া শেষ করেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। মাঝে মাঝে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরিও করেন। কিন্তু এতে মন বসেনি। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল অস্ত্র সংগ্রহের। সেখান থেকে ধীরে ধীরে জড়িয়ে যান অপরাধ জগতে। এরপর শুরু করেন চুক্তিতে মানুষ হত্যা। সম্প্রতি লন্ডন থেকে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যকে হত্যারও কাজ পেয়েছিলেন।

গত ১৫ মে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে দুটি পিস্তল এবং ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদকে। দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় তার কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন।

তিনি বলেন, অস্ত্র সংগ্রহ ছিল জাহিদুলের শখ। পেশায় চিকিৎসক হলেও একপর্যায়ে চুক্তিভিত্তিতে কিলিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। সম্প্রতি লন্ডন থেকে পাওয়া সিলেটের একজন সংসদ সদস্যকে হত্যার চুক্তি পেয়েছিলেন। তবে লন্ডন থেকে কে এবং সিলেটের কোন সংসদ সদস্যকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আরও দুদিন রিমান্ডের মেয়াদ আছে, আমরা এ বিষয়ে জানতে পারবো বলে আশা করি।

মনিরুল বলেন, বিবাহিত জীবনে প্রথম স্ত্রী এসব কারণে চলে গেলে, দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যে ৩ জুন গাবতলী থেকে বর্তমান স্ত্রী মাসুমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুমাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বামীর বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডারের সন্ধান মেলে। সবশেষ বুধবার রাতে ময়মনসিংহের বাঘমারায় জাহিদের বাসায় বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় উদ্ধার হয় বিপুল অস্ত্র ও গুলি। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৬২২ রাউন্ড গুলি।

এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, জাহিদের বাসায় বিশেষভাবে তৈরি করা দেয়ালে অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হওয়া রিভলবারে আটটি চেম্বার রয়েছে। কিন্তু থাকার কথা ছয়টি। মানে অস্ত্রগুলো অত্যাধুনিক। সে মাঝে মাঝে বিভিন্ন হসপিটালে চাকরি করলেও অস্ত্র কেনাবেচাই তার পেশা।

ডা. জাহিদুলের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ ছিল না কি না তাও খতিয়ে দেখছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here