অপহরণের পর দফায় দফায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে মামলা করেছেন নিহতের মা হেলেনা বেগম। তবে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাজহান ওরফে কহিনুরের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে চার লাখ টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি হেলেনা বেগমকে মামলা প্রত্যাহরের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে তাকেও তার মেয়ের মতো পরিনতী করা হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মামলার বিবরণ ও পারিবরিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ মে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলদিআটা গ্রামের শাহজান আলীর ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে চুনিয়া পটল গ্রামের আবদুর রহমানের মেয়ে কাকলী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন।তবে পাশের বাড়ির ছাহের আলীর ছেলে রেজাউল হক (৩০) মাঝে মধ্যেই কাকলীকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়। গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে গৈরাং নামকস্থানে ৭ থেকে ৮ জনকে সঙ্গে নিয়ে এই গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায় রেজাউল।

অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে রেখে কাকলী বেগমকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দফায় দফায় ধর্ষণ করে সে। দীর্ঘদিন পাশবিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত ভেবে গত ৪ এপ্রিল রাতে তাকে তার বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই গৃহবধূ মারা যান।

মা হেলেনা বেগম জানান, তার মেয়েকে রেজাউল গংরা অপহরণ করে নিয়ে দীর্ঘ তিন মাস ধরে ধর্ষণ করে। মৃত ভেবে কাকলীকে বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যায়। যারা তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।

কাকলীর মা আরও জানান, এ ঘটনার পর পরই ধনবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলেও প্রভাবশালী রেজাউল গংদের চাপে রহস্যজনক কারণে মামলা নেয়নি পুলিশ। ফলে বাধ্য হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

এদিকে কাকলীর খালাত ভাই আশরাফুল জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাজাহান ওরফে কহিনুরের নেতৃত্বে এলাকার মাতাব্বর শফিকুল ইসলাম ওরফে চাঁন মিয়া ও আবদুল মালেকের সহায়তায় সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে অভিযুক্তদের ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। শুধু তাই নয়, জরিমানার চার লাখ টাকার দুই লাখ মেয়ের পরিবার এবং বাকি দুই লাখ টাকা মাতাব্বররা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতে চান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি মেম্বার শাজাহান ওরফে কহিনুরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খুবই পৈচাশিক। আমি এর প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

ধনাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলাম জানান, শুনেছি মেয়ের সঙ্গে ওই ছেলের সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি। তবে আমার জানা মতে, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। এখন সেটি সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমানও।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here