ফুটবলের বিশ্বকাপ মানেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবে গা ভাসানোর সময়। আনন্দে মাতোয়ারা হওয়ার সময়। কিন্তু, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা ফুটবলপ্রেমীদের আগাম সতর্ক করে দিয়েছেন।

উত্তেজনা ও উন্মাদনার বশে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে বেহিসেবি যৌন সংসর্গ থেকে বিপত্তি, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যার মতো ঘটনা সম্পর্কে সবাইকে আগাম সতর্ক করে দিয়েছেন তারা। অতীতের প্রতিটি বিশ্বকাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই তারা সাবধানতার বাণী শুনিয়েছেন, আবেগকে কাবু রাখুন। দলের জয় বা পরাজয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা ভালো নয়। তাই, অতিরিক্ত উত্তেজনা বা টেনশনের ম্যাচে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাঠেই শুধু নয়, টিভিতে ম্যাচ দেখার সময়েও অনেকে অত্যধিক চিৎকার চেঁচামেচি করেন। এই পরিস্থিতিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই এই আগাম সতর্কতা। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্ডিয়াক বিভাগের সিনিয়র নার্স জুলি ওয়ার্ড ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার-জিতের ক্ষেত্রেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত হতাশার মতো প্রবল আনন্দেও ফুটবলপ্রেমীদের মৃত্যুর প্রচুর নজির রয়েছে। ২০০৩ সাল রাগবি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে মহিলার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এমনকি, ‘আই স্ট্রোক’ থেকে অন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্বকাপে প্রিয় দলের হারের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনাও বিরল নয়। বিশ্বকাপের আসরে অত্যধিক মদ্যপানের জেরে নানা রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। যা এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয় বলে বিধান দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০২, ২০০৬ এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের আচরণের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০১৩ সালে।

তাতে দেখা গিয়েছে, ম্যাচে হারা বা জেতার উপর বাড়িতে দুর্ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে। যেমন, জাতীয় দল জিতলে বা ড্র করলে বাড়িতে দুর্ব্যবহারের মাত্রা ২৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, হারলে এই হার বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here