প্রায় দেড় বছর আগে অসুস্থ জাহেরকে কে বা কারা মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের অদূরে ক্লাং হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক চিকিৎসায় তার জ্ঞান ফিরলেও স্মৃতিশক্তি ফেরেনি। কোনো স্বজনের খোঁজ না পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অবহিত করে।

আর এতেই মহাবিপাকে পড়ে হাইকমিশন। কারণ লোকটি বাংলাদেশি নিশ্চিত হওয়া গেলেও তিনি ঠিকানা লিখতে বা বলতে পারছিলেন না। পরিচয় খুঁজতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করলেও দীর্ঘ সময় তার পরিবারের খোঁজ মেলে না। এ নিয়ে বেশ কিছু পত্রিকায় সংবাদও প্রচার হয়েছে।

এ অবস্থায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় মালয়েশিয়াস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহাদুজ্জামানসহ সমিতির সদস্যরা। কারণ তারা অনেকটা নিশ্চিত হয় যে লোকটির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সম্প্রতি চাঁনপুর গ্রামে লোকটির ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা জাহের মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুর ১৩ বছর পর বেঁচে দেশে ফিরলেন জাহের মিয়া
মৃত্যুর ১৩ বছর পর বেঁচে দেশে ফিরলেন জাহের মিয়া

তবে শুরুতে বিশ্বাসই করতে পারেনি তার পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে যে তারা কোনো সন্ধানই পাচ্ছিলেন না। তাই মনে করেছিলেন জাহের মিয়া মালয়েশিয়ায় মারা গেছেন। ১৩ বছর পর তার বেঁচে থাকার খবরে আনন্দে উদ্বেলিত স্ত্রী পেয়ারা বেগম ও তার তিন সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তবে তাদের এই আনন্দের মধ্যে হঠাৎ হানা দেয় বিষাদের ছায়া। কারণ জাহের মিয়ার দেশে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কয়েক লাখ রিঙ্গিতের ঋণের বোঝা। অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ দেওয়া যে একেবারেই অসম্ভব।

পরে মালয়েশিয়াস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় ৩ জুন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে মানসিক ভারসাম্যহীন জাহেরকে দেশে পাঠানো হয়। এক স্ট্যাটাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহাদুজ্জামান লেখেন, আজ মনে হচ্ছে মানবতা এখনও উজ্জীবিত, সত্যি প্রবাসে অ্যাসোসিয়েশন গড়ার স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া গেল। যার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশন তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর সুনাম অর্জন হবে বলে আশা করছি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here