কলেজে পড়া প্রতিবেশী তরুণ রবিউল ইসলামের (২৩) কাছে পড়তে গিয়ে তার কাছেই একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয় পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু। যেখানে স্কুলব্যাগের ভার বহন করতেই তার হাঁসফাঁস অবস্থা, সেখানে সেই শিশু পেটে বহন করে বেড়াচ্ছে আরেকটি অনাগত শিশু।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন আলম তদন্ত শেষে রবিউলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। যদিও মামলার পর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

এদিকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগামী ২৭ জুন শিশুটির মা হওয়ার সম্ভাব্য সময়। কিন্তু সে এখন পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। হতদরিদ্র মা-বাবা পারছেন না তার চিকিৎসা করাতেও। ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করতেই দুচোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে তার।

মেয়েটির মা জানালেন, সারাক্ষণ শুধু কাঁদে আর কাঁদে। এ ঘটনার পর লোকলজ্জায় বাড়ি থেকেও বের হয় না সে। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়াও। সামাজিকতার কারণে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে চাতাল শ্রমিকের এই পরিবারটি।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া ইউনিয়নের সাইদুর রহমানের ছেলে প্রাইভেট শিক্ষক রবিউল ইসলামের কাছে মেয়েটি পড়তে যেত। এর সুযোগ নিয়ে একদিন ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথম ধর্ষণ করা হয় তাকে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকিও দেয় রবিউল। পরে আবারও কয়েকবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। ভয়ে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই সময় মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলে মেয়েটি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয় পরিবার। এদিকে বাচ্চা নষ্ট করলে মেয়েটির জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান চিকিৎসক। তাই অনাগত শিশুকে পেটে বহন করছে এখনো মায়ের আঁচল ধরে হাঁটা এই শিশুটি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here