‘আমি আমার মায়ের জন্য কোনো কিছু আনা হলে আমার স্ত্রী সেটা কোনোভাবেই সহ্য করত না। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে খুব ঝগড়া হতো। আমি মাকে কিছু দিতে গেলেই সে গালিগালাজ করত, ঝগড়া করত।’ কথাগুলো বলছিলেন রংপুর মহানগরীর দক্ষিণ গনেশপুর এলাকার মাসুম মিয়া।

শনিবার সকালে আম গাছে ঝোলানো অবস্থায় তার মালেকা বেগমের (৪৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খাবার চাওয়ায় পুত্রবধূ আঁখি বেগম ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে শাশুড়িকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে লাশ ঝুলিয়ে রাখে বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

নিহতের স্বামী রেজাউল হক বলেন, ‘আমার স্ত্রী মলেকা বেগম শুক্রবার পুত্রবধূ আখির কাছে খাবার চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে মধ্যরাতে আবারও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আমার স্ত্রীকে আঁখি ব্যাপক মারধোর করে। নির্যাতনের মুখে আমার স্ত্রী মারা গেলে তাকে রশি দিয়ে আমগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে শনিবার সকালে এসে লাশ উদ্ধার করে।’

বৃদ্ধার দেবর আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১টার দিকে ভাতিজা মাসুম মিয়া আমার বাড়িতে এসে বলে- চাচা মা তো মারা গেছে। এ সময় সে একটি লাঠি নিয়ে তার স্ত্রীকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে। আমরা গিয়ে দেখি লাশ আমগাছে ঝোলানো।’

এদিকেে লাশ উদ্ধারকারী কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা না হত্যা তা তদন্তে বের হয়ে আসবে। তবে লাশের শরীরের বিভিন্নস্থানে ৬টি মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নির্যাতন করে মেরে ফেলার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here