বলিউডের সুন্দরীদের কথা যখনি ওঠে তখনি সেখানে আর কেউ থাকুন না থাকুন মধুবালা থাকবেনই। মধুবালার সৌন্দর্যের জন্য তাকে ‘ভেনাস কুইন‘ বলে সম্বোধন করা হতো। বলাই বাহুল্য এই কারণে মাঝে মধ্যেই সহ নায়কেরা এবং পরিচালকেরা প্রেমে পড়তেন তার। এমনকি তার আত্মজীবনী ‘দ্য মিস্ট্রি অ্যান্ড দ্য মিস্টিক‘-এ মধুবালা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে লেখক মোহনদীপ লেখেন, ‘তাকে সবাই নিজের করে নিতে চাইতো । কিন্তু মধুবালা জীবনের শেষ অবধি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেন। তিনি পুরুষদের ভালবাসতেন, কিন্তু কাউকে ধরে রাখতে পারেন নি।‘ মধুবালার জীবনে এসেছেন অসংখ্য পুরুষ কিন্তু সব থেকে দুঃখের ব্যাপার হলো মৃত্যুশয্যায় কিন্তু তার পাশে কেউ ছিলেন না। রইলো মধুবালার জীবনে বিভিন্ন পুরুষদের আসা যাওয়ার গল্প।

ছোটবেলার বন্ধু লতিফ : মুম্বাইতে আসার আগে মধুবালা দিল্লিতে থাকতেন। সেখানেই জন্ম এবং বড় হয়ে ওঠা। কিন্তু মধুবালা যখন মুম্বাইতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তার ছোটবেলার প্রেমিক লতিফ খুবই ভেঙে পড়েন। যাওয়ার আগে নিজেদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে লতিফকে একটা লাল গোলাপ উপহার দেন মধুবালা। শোনা যায় সেই গোলাপ সারাজীবন নিজের কাছে রেখেছিলেন লতিফ। পরে মধুবালার কবরে সেই গোলাপ রেখে আসেন লতিফ। এরপর প্রতি বছরই উনি মধুবালার মৃত্যু দিনে ২৩ ফেব্রুয়ারি মধুবালার সমাধিতে একটা লাল গোলাপ রেখে আসতেন।

পরিচালক কেদার শর্মা

পরিচালক কেদার শর্মা : মধুবালাকে বলিউডে প্রথম ব্রেক দেন কেদার শর্মা। মধুবালার বাবার বয়সী ছিলেন কেদার শর্মা। কিন্তু গুজব শোনা যায় প্রথমাবার মধুবালাকে দেখা মাত্র তার প্রেমে পড়েন কেদার। কিন্তু মধুবালা সেই প্রেমে কোনদিনই সাড়া দেন নি। অগ্যতা মধুবালার প্রতি কিদারের প্রেমে একপেশে হয়েই রয়ে যায়। মধুবালার ছোট বোন মধুর ব্রিজ ভূষণ অবশ্য মধুবালার প্রতি কেদার শর্মার দুর্বলতাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কমল আমরোহি

পরিচালক কমল আমরোহী : এরপর মধুবালার প্রেমে পড়েন কমল আমরোহী। তিনি বলিউডের কাল্ট ছবি ‘মহল‘ এর পরিচালক ছিলেন। বলিউডের ইতিহাসে এই ছবি সর্বকালের সেরা সুপারহিট ছবির মধ্যে একটা। এই ছবির সেটেই দুজনে প্রেমে পড়েন। শোনা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবির সেটে সময় কাটাতেন মধুবালা ও কমল। মধুবালার বাবাও তাদের সম্পর্ক মেনে নেন। তিনি নাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পরে যদি ওরা বিয়ে করেন তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই তার।

মধুবালার সঙ্গে যখন কমলের সম্পর্ক হয় তখন কিন্তু তিনি বিবাহিত ছিলেন। তাও মধুবালা এবং তিনি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কমল তার প্রথম স্ত্রী বলিউডের সেই সময়কার বড় অভিনেত্রী মিনাকুমারীকে ছাড়তে চাইলেন না। উনি মধুবালাকে নিজের দ্বিতীয় পত্নী বানাতে চেয়েছিলেন। আর এতে মত ছিল না মধুবালার। মধুবালা নাকি কমলকে ৯ লাখ টাকাও দিয়েছিলেন যাতে উনি মিনাকুমারীকে ডিভোর্স দিয়ে তাকে বিয়ে করেন।

অভিনেতা প্রেমনাথ

অভিনেতা প্রেমনাথ : প্রেমনাথ ও মধুবালার আলাপ হয় ‘বদল‘ ছবির সেটে। কিন্তু ৬ মাসের মাথায় মধুবালা নিজেকে সরিয়ে নেন। মধুবালার বোন মধুর জানিয়েছিলেন মধুবালাকে নিজের ধর্ম পাল্টে নিতে বলেছিলেন প্রেমনাথ। আর এই কারণেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

দিলিপ কুমার : মধুবালা ও দিলিপ কুমারের আলাপ হয় ‘তরানা‘ ছবির সেটে। দীর্ঘ নয় বছর সম্পর্ক ছিল তাদের। শোনা যায় মধুবালার বাবা আতাউল্লা খানের কারণে নাকি তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। মধুবালা দিলিপকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনো ফল হয় নি। দিলিপ কুমার নাকি মধুবালাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি যদি তার বাবার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে দেন তাহলে সেই মুহূর্তে তাকে বিয়ে করবেন। তবে অনেকেই মনে করেন দুজনের অসম্ভব জেদের কারণেই মধুবালা ও দিলীপের সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছিল।

দিলিপ কুমার

অন্যদিকে আবার এও শোনা যায় মধুবালা একই সঙ্গে প্রেমনাথ এবং দিলিপ কুমারের সঙ্গে প্রেম করছিলেন। দিলিপ ও প্রেমনাথ একসঙ্গে ‘আন ছবিতে অভিনয় করেন । দুজনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয় এবং একদিন দুজনেই জানতে পারেন তারা একই মহিলার সঙ্গে প্রেম করেছেন। তবে সত্যিটা যাই হোক না কেন মধুবালার শেষকৃত্যের সময় কিন্তু প্রেমনাথ এবং দিলীপ কুমার দুজনেই উপস্থিত ছিলেন।

জুলফিকার আলি ভুট্টো : পাকিস্তানের এই সাবেক প্রেসিডেন্টের কিন্তু বলিউডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি একসময় বম্বে হাইকোর্টের একজন ব্যারিস্টার ছিলেন। উনি একজন খুবই ধনী ব্যক্তি ছিলেন যার বম্বেতে অসংখ্য জমি এবং বাড়ি ছিল। উনি নিয়মিত ‘মুঘল-এ-আজম‘ ছবির সেটে উপস্থিত থাকতেন মধুবালাকে দেখার জন্য। তবে মধুবালা ও জুলফিকারের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী ছিল। কারণ সদ্য দিলিপ কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়াতে মধুবালা তখনো নিজেকে সামলে উঠতে পারেন নি। তবে মধুবালা ও জুলফিকারের সম্পর্ককে এখনো রহস্যে ঘেরা ।

জুলফিকার আলি ভুট্টো

কিশোর কুমার : অসংখ ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম করে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন মধুবালা। উনি একজন এমন সাথী খুঁজছিলেন যার সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিশোর কুমারের সঙ্গে তার আলাপ এবং প্রেম হয় ‘চলতি কা নাম গাড়ি ‘ এবং ‘হাফ টিকিট‘ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন। ১৯৬০ সালে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর লন্ডনে গিয়ে ধরা পড়ে মধুবালার হৃদযন্ত্রে ফুটো আছে। ডাক্তাররা জানিয়ে দেন বড়জোর আর দুই বছর বাঁচবেন মধুবালা। এরপর কী হয়েছিল তা মধুবালার বোন মধুরের মুখেই শুনে নিন ‘কিশোর দিদিকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে যান। উনি বলেন, ‘আমি মধুবালার দেখাশোনা করতে পারব না। আমি ছবির শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত থাকি।‘ কিন্তু দিদি তার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল।

কিশোর কুমার ও মধুবালা

কিশোর কুমার দু‘মাসে একবার দিদিকে দেখতে আসতো। উনি হয়তো ইচ্ছা করেই দিদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন যাতে দিদির মৃত্যুতে তার কষ্ট না হয়। তবে এটা একদম মিথ্যে যে উনি দিদির সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন। দিদির চিকিৎসার পুরো খরচাটাই উনি দিয়েছেন। তারা ৯ বছর বিবাহিত ছিলেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here