গভীর রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অজ্ঞাত তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ বড়লোকের বখাটে ছেলে মাহমুদুল হক রনির বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতের এ ঘটনায় তাকে ও তার গাড়িচালককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পুরো নগ্ন অবস্থায় গাড়িচালক পালিয়ে গেলেও রনিকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। আর যে তরুণীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল তিনি গর্ভবতী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রনি হকের সঙ্গে ওই তরুণীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘আমি ঘটনার ভিডিও দেখার পরই মাঠে নামি। পরে অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দুই তরুণী তুলে আনার কথা স্বীকার করেছে। ওই দুই তরুণীরও সন্ধান মিলেছে। সামাজিক দিক বিবেচনা করে তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে। তবে দুই ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা।’

রবিবার শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘আটক রনি হককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল, তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

জানা গেছে, রনি ও তার গাড়িচালককে রাস্তায় গণপিটুনির ওই ভিডিও সকালে ফেসবুকে পোস্ট করেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। সেই সঙ্গে ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি অফিস থেকে ফেরার সময় মোহাম্মদপুর কলেজগেট সিগন্যালে তার সামনে থাকা গাড়িতে একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি গাড়িটিকে অনুসরণ করেন। জ্যামের কারণে গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাফি।

রাফি আহমেদ লেখেন, আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করচ্ছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান।

ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এর পর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল।

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।

এদিকে ফেসবুকে রনি হক তার আইডিতে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই প্রাইভেট কারসহ একটি ছবি পোস্ট করেন। সে ছবিতে থাকা প্রাইভেট কারের নম্বরের সঙ্গে গতকালকের ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো–গ ২৯-৫৪১৪’ মিলে গেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here