গভীর রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অজ্ঞাত তরুণীকে জোর করে গাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদুল হক রনি। তার দাবি, ওই তরুণী ছিলেন যৌনকর্মী। টাকার বিনিময়ে তাকে ভোগ করেন। এদিকে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের ঘটনায় ১৫ ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী তরুণী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আর এই মামলাতেই রনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাতে দুই বান্ধবী কলেজগেট এলাকায় মাহমুদুল হকের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৫৪১৪) থামিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিছু দূর যাওয়ার পর এক তরুণীকে শিশুমেলা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। গাড়িতে থাকা আরেকজনকে ধর্ষণ করেন রনি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস বলেন, ‘বিকেলে দুই তরুণী থানায় আসেন। এর মধ্যে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।’

এদিকে প্রাথমিক তদন্ত ও পরীক্ষার পর রনির রক্তে অ্যালকোহলের নমুনা পাওয়া গেছে। এতেই প্রমাণিত ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের জন্য ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে ধর্ষনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রনি। তার দাবি, ওই দুই তরুণী যৌনকর্মী ছিল। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করায় বেসামাল ছিলেন তিনি। তার এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে গাড়িচালক সংসদ ভবনসংলগ্ন খেজুর বাগান এলাকা থেকে দুই যৌনকর্মীকে গাড়িতে তোলেন।

এরা আগে শনিবার গভীর রাতের এ ঘটনায় তাকে ও তার গাড়িচালককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পুরো নগ্ন অবস্থায় গাড়িচালক পালিয়ে গেলেও রনিকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তবে গাড়িচালক এখনো পলাতক রয়েছেন।

অভিযুক্তর বাবা মৃত ফজলুল হক, গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া। পেশায় জিম ব্যবসায়ী রনি ঢাকায় ধানমন্ডি-১৫ নম্বরের মিতালী রোডের একটি বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন।

জানা গেছে, রনি ও তার গাড়িচালককে রাস্তায় গণপিটুনির ওই ভিডিও সকালে ফেসবুকে পোস্ট করেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। সেই সঙ্গে ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি অফিস থেকে ফেরার সময় মোহাম্মদপুর কলেজগেট সিগন্যালে তার সামনে থাকা গাড়িতে একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি গাড়িটিকে অনুসরণ করেন। জ্যামের কারণে গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাফি।

রাফি আহমেদ লেখেন, আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করচ্ছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান।

ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এর পর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল।

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।

এদিকে ফেসবুকে রনি হক তার আইডিতে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই প্রাইভেট কারসহ একটি ছবি পোস্ট করেন। সে ছবিতে থাকা প্রাইভেট কারের নম্বরের সঙ্গে গতকালকের ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো–গ ২৯-৫৪১৪’ মিলে গেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here