প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি। সম্পর্কের টানাপোড়েনে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও কল করে আত্মঘাতী হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক তরুণী। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের বৈদ্যপাড়ায়। মৄত তরুণীর নাম মৌসুমী মিস্ত্রি।

পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকাগুলো জানায়, মৌসুমী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর কামরাবাদ স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোনারপুরেরই ঘাসিয়াড়ার বাসিন্দা আরিয়ান নামে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। মৃতার পরিবার জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে এক বান্ধবীর ফোন পেয়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় মৌসুমী। বিকেল পাঁচটার মধ্যে তার বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সময়মতো ফেরেনি সে। অবশেষে সন্ধে ছ’টা নাগাদ বাড়িতে ফেরে মৌসুমী।

বাড়িতে ফেরার পর থেকেই মৌসুমী চুপচাপ ছিল বলে দাবি করেন মৌসুমীর মা শম্পা মিস্ত্রি। তার সঙ্গেও সেভাবে মেয়ে কথা বলেনি বলেই জানিয়েছেন শম্পাদেবী। মৌসুমীর মা আয়ার কাজ করেন। তিনি সন্ধেবেলা সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। মৌসুমির বাবা ও ভাই অন্যত্র থাকেন। বাড়িতে একাই ছিল সে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, রাতের দিকে পাড়ার একটি জলসাতেও যায় মৌসুমী। ফিরে এসে রাতের খাওয়াদাওয়া করে প্রতিদিনের মতো দরজা বন্ধ করে দেয় সে। কিন্তু প্রতিদিন সকালে আটটার মধ্যে উঠে পড়লেও, রোববার ঘুম থেকে ওঠেনি মৌসুমী। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ না পাওয়ায়, জানলা দিয়ে তাকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ দেখতে পান বাড়ির লোক। খবর দেওয়া হয় সোনারপুর থানায়। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মৌসুমীর ঘরেই তার মোবাইলটি পাওয়া যায়। তখনও মোবাইলে ফেসবুক লাইভ অন করা ছিল। সেখানেই তার আত্মহত্যার ভিডিও দেখতে পায় পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার আগে আরিয়ানের সঙ্গে সোশ্যাল সাইটে তার দীর্ঘক্ষণ কথা হয় বলে জানা গিয়েছে। সম্ভবত প্রেমিকের সঙ্গে লাইভ কল চলাকালীনই আত্মহত্যা করে মৌসুমী।

আরিয়ান বিষয়টি জানলেও কাউকে কিছু কেন জানায়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনায় মৌসুমীর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here