মমিনুল ইসলাম। পেশায় দিনমজুর। বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা গজেরকুটি গ্রামে। পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। অনেক কষ্ট করে দুই মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। পাঁচ ছেলের সবাই স্কুলে পড়ে। প্রথম ছেলের সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। দ্বিতীয় ছেলে দশম শ্রেণি, তৃতীয় ছেলে ষষ্ট শ্রেণি, চতুর্থ ছেলে চতুর্থ শ্রেণি, পঞ্চম ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিনি এলাকায় পরিচিত ‘ভিন্ন মানুষ’ হিসেবে। কারণ কাঠফাঁটা রোদ কিংবা কনকনে শীত, সব ঋতুতেই একই পোশাক পরেন। মাথায় মানকি টুপি, গায়ে শার্টের ওপর জ্যাকেট। এক দুই বছর নয়, এভাবেই গত ৩০ বছর পার করেছেন তিনি। পোশাকের সঙ্গে তার মাথার লম্বা চুল ও দাঁড়ি-গোফ। মমিনুলের খাওয়া-দাওয়াতেও রয়েছে ভিন্নতা।

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রখর রোদ ও প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ যখন অতিষ্ঠ তখনও একটু বদলাননি মমিনুল ইসলাম। প্রখর রোদে গায়ে জ্যাকেট ও মাথায় শীত নিবারণের মানকি টুপি পরে চলাচল করছেন। তার ‘অদ্ভুদ’ চেহারা দেখে গ্রামের অনেক মানুষেই তাকে পাগলা বলে তিরুষ্কার করে।

আদ্ভুত মানুষটির সঙ্গে আলাপ করে অনেক মজার তথ্য বেরিয়ে আসে। তিনি জানান, মাসে একদিন গোসল করেন। নিজের খাবার নিজেই রান্না করে খান। কারো হাতের রান্না তিনি পছন্দ করেন না। এমনকি নিজের স্ত্রীর হাতের রান্নাও না! গত ৩০ বছর ধরেই তিনি নিরামিষ খাচ্ছেন। কোনো মাংসও তিনি খান না। মাছ, শুটকি, ডিম খেতেও পছন্দ করেন না। শুধুমাত্র দুবেলা শাক-সবজি খেয়ে বেঁচে আছেন।

অনেক কষ্টে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। সংসারে সহযোগিতার জন্য বড় ছেলে ছামিউল লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষের বাড়িতে মাঝেমধ্যে দিনমজুরের কাজ করে।

মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মুই ৩০ বছর ধরে একই পোশাকে আছং। মোর কোনো চলাফেরা করতে সমস্যা অয় না। সাধনা শুধুই মুই আল্লাহর নাম করে চলং। ১২ মাসেই এভাবেই মুই চলং। আল্লাহর কৃপায় মোর কোনো সমস্যা নওয়াই। মোর একটু সমস্যা আছে, সেটা হলো মুই গরিব মানুষ। দিনমজুরের কাজ করে সাত সদস্যের সংসারের ঘানি টানা খুব কষ্টের। সরকার যদি মোক অনুদান দিত তাইলে মোর সংসারে কিছুটা শান্তি ফিরে আসত।’

এ বিষয়ে গজেরকুটি ওর্য়াডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) এরশাদুল হক জানান, মমিনুল বড় বড় দাঁড়ি-গোফ ও একই পোশাকে ৩০ বছর ধরে জীবনযাপন করছেন। এ কারণে তাকে গ্রামে কিছু লোক তিরষ্কার করে পাগল বলে ডাকে। কিন্তু পাগল নন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here