ঈদের সকালে নামাজ পরে কোলাকুলি না করা পর্যন্ত ঈদ যেন ঠিক শুরুই হয় না। আর তারপরই শুরু হয় ছোটদের ঈদের সবচেয়ে আনন্দের পর্বে সালামি বা ‘ঈদি’ সংগ্রহ। এ জন্য ঈদের আগেই নতুন টাকার ব্যবস্থা করে রাখেন পাড়ার মুরুব্বীরা। এ ছাড়া শহর থেকে চাকরিজীবী, কর্মজীবীদের প্রায় সবাই গ্রামে যান আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উদযাপনে। তারাও ছোটদের বায়না মেটানোর জন্য আলাদা বাজেট রাখেন। সঙ্গে করে নিয়ে যান নতুন নতুন নোট।

তবে সামান্য এই টাকার জন্য ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি এড়িয়ে চলতে চান সাধারণ মানুষ। তখন তারা দ্রুত ও সহজ পথে নতুন নোট জোগাড়ের পথ খুঁজেন।

এসব মানুষের চাহিদা মেটাতে মতিঝিল, গুলিস্থান, সদরঘাটসহ রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে নতুন টাকার নোট নিয়ে বসেন কিছু লোক। যদিও এতে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি খরচ করতে হয়। ঝামেলার কাছে সেটা নেহাতই। তবে ঈদ এলে মৌসুমী বিক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দাম রাখা হয়।

ঈদের সময় মূলত ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোটের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার নতুন নোটও ভালো বিক্রি হয়। ২ টাকা নোটের বান্ডিলে ২৫০ টাকা সমমূল্যে ১২৫টি নোট বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৫ টাকা নোটের। ৫০০ টাকা সমমূল্যের ১০০টি পাঁচ টাকা নতুন নোটের দাম ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।

এ ছাড়া ১ হাজার টাকা সমমূল্যের ১০ টাকার ১০০টি নোটের বান্ডিলের দাম রাখা হয় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা। ২০ টাকা নোটের ২ হাজার টাকা সমমূল্যের বান্ডিলে ১০০টি নোটের দাম রাখা হয় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১২০ টাকা পর্যন্ত। আর আড়াই হাজার টাকা মূল্যের ৫০ টাকার নতুন বান্ডিলে ৫০টির বিপরীতে রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে। প্রতি ১০০টি ১০ টাকা নোটে বাড়তি রাখা হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর ১০০ টাকার নোটের আড়াই হাজার টাকা সমমূল্যের ২৫টি নোটের দাম রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে।

মূল টাকার চেয়ে বেশি দাম হওয়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতা কামরুল বলেন, ‘আমরা মূলত ব্যাংক থেকে টাকা এনে বিক্রি করে থাকি। তাই সামান্য লাভ করতে কিছুটা বেশি দাম রাখতে হয়।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here