আর্জেন্টিনা দলে দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং তার বিখ্যাত জুটি নিয়ে মুখ খুলেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ‘লা নাসিয়ন’ এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেসি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত অভিজ্ঞতার কথা। তবে ম্যারাডোনার সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন ছিল, তা নিয়ে কথা বলতে চাননি তিনি।

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের পরে তার কী মনে হয়েছিল? সংবাদপত্রটির প্রশ্নের সামনে মেসি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগেই হেরে বিদায় নিতে হলে সকলেই ভেঙে পড়বে। আমারও সেই অবস্থা হয়েছিল। তবে অতীতে পড়ে থাকার মানে হয় না। প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিতে হয়। জীবনের মতোই ফুটবলেও আমি ভাগ্যবান যে, বেশির ভাগ ভাল মুহূর্তই পেয়েছি। কিন্তু আমি খারাপ মুহূর্তগুলো থেকেও ইতিবাচক তরঙ্গ বার করে নেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে সব সময় শেখার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে পারি।’

আর্জেন্টিনা জুড়ে স্লোগান উঠেছে, এ বার নয়তো আর কখনও নয়। লিওনেল মেসির এটাই শেষ সুযোগ বিশ্বকাপ জেতার। নিজের দেশে দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে অহরহ তার তুলনা টেনে বলা হয়, মেসি শুধু ক্লাব ফুটবলেই সেরা। ম্যারাডোনার মতো ক্লাব-দেশ দু’জায়গাতে সফল নন। ম্যারাডোনার মতো কখনও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ দিতে পারেননি তিনি। সেই সমালোচনাকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ।

অতীতে নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বলে দিলেও মেসি কিন্তু জানাতে ভোলেননি যে, সমস্ত খারাপ ফল তাকে আঘাত করে। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় কোপা আমেরিকা কাপে আমি ভাল খেলছিলাম। কিন্তু চিলির কাছে ফাইনালে হারটা একটা বড় ধাক্কা ছিল। খুবই হতাশ হয়েছিলাম। আমাদের কাপ জেতার মতো দক্ষতা ছিল। খুব ভাল খেলছিল দল। তার পরেও ফাইনালে গিয়ে হারলাম। সমস্ত আশাই শেষ হয়ে গেল এক সেকেন্ডের ভুলে। আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম।’

এর পরেই ম্যারাডোনার সঙ্গে তার জুটির বাধার প্রসঙ্গে ঢুকে পড়েন। আর্জেন্টিনার ভাগ্য ফেরাতেই ম্যারাডোনাকে কোচ করে এনেছিলেন আর্জেন্টিনার কর্তারা। কিন্তু তিনি যত বড় ফুটবলার ছিলেন, ততটাই ব্যর্থ হলেন কোচ হিসেবে। মেসি সেই সময়ের কথা মনে করতে গিয়ে বলছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতাটা মনে পড়লে খারাপ লাগে কারণ, আমাদের নিয়ে কত লোকের কত প্রত্যাশা ছিল। দল হিসেবে আমরা ভাল খেলছিলাম বলে সেই প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল।’

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দিকে আঙুল না তুলে নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মেসি। যেটা তার বরাবরের বৈশিষ্ট। বলেছেন, ‘একটাও গোল করতে পারিনি আমি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু আমাকে মনে রাখতে হবে যে, কোনও কোনও সময়ে এমন ঘটনা জীবনে ঘটে যার কোনও ব্যাখ্যা হয় না। পরে গিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পেরেছিলাম এই বলে যে, আমি তো সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করেছিলাম। আমি পারিনি সে বার কিন্তু চেষ্টায় কোনও ত্রুটি ছিল না।’

তার পরেই যেন সারা ফুটবল দুনিয়ার ভক্তদের উদ্দেশে আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি পরে আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। সব সময় আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি সেরা খেলাটা খেলার।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here