সৌদির প্রিন্স মোহামেদ বিন সালমান, ফিফার প্রেসিডেন্ট ইনফানটিনো ও রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খেলা দেখছিলেন। তৃতীয় গোলটি যখন সৌদি হজম করল, পুতিন উঠে হাততালি দিতে উদ্যোগী হলেন। আবার বসে পড়ে তালি দিলেন। প্রেসিডেন্ট না হলে পতাকা হাতে গ্যালারিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতেন।

ইনফানটিনো প্রিন্সকে বললেন হয়তো, হচ্ছে না তো আপনার ছেলেদের! দুর্দান্ত ফুটবলশৈলী দেখিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল রাশিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোপ অপেরা দেখার পর এমন জয়ে জেগে উঠেছে স্বাগতিকরা। শহরের প্রতিটি অলি-গলিতে এখন আনন্দের ফোয়ারা।

সৌদি আরবের তাইসার রেড স্কয়ার দেখতে চেয়েছিলেন। কোচ পিজ্জি নিষেধ করে দেন। স্পেনে বিশেষ দিনে লাল দেখা নিষেধ। পিজ্জি স্পেনে দেখেছেন। রাশিয়া মাথায় আসতেই রেড স্কয়ার আসবে, লাল আসবে। রাশিয়া গোলাপের দেশও বটে। উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের আশা পূর্ণ হয়েছে। পুরো ৯০টি মিনিট চোখে শর্ষে ফুল দেখেছে। আর লাল রঙের দাপটে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার কোচ স্ট্যানিসলাভ শেরশেসভ বলেছিলেন, চার ডিফেন্ডার নিয়ে খেলবেন। যে কেউ ভাববে হয়তো স্বাগতিকরা আক্রমণে যাবে না। আসলে ঘটেছে তার বিপরীত। রাশিয়া ফরমেশন সিফটিং করে খেলেছে, গেছে কাউন্ডার অ্যাটাকে। সৌদি আরব কোথাও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। স্বাগতিকদের অবিশ্বাস্য সূচনা হয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন জয়ে এই ‘এ’ গ্রুপের লড়াই জমিয়ে তুলল রাশিয়া। এই গ্রুপের অপর দুটি দল মিসর ও উরুগুয়ে। ৫-০ গোলের জয়ে পরের পর্বের আশা দেখাই যায়।

রাশিয়া ছোট ছোট পাসে খেলছে। এমন রাশিয়াকে কে কবে দেখেছে। দুর্দান্ত সব ক্রস। ধীরে ধীরে বল নিয়ে যাওয়া। চোখে ভ্রম হচ্ছিল। স্পেন নয়তো! পরে মনে হলো; এটা সে লাল নয়, এটা রাশিয়া। ১২ মিনিটে স্বাগতিকদের আনন্দে ভাসান ইউরি গাজিনস্কি। বক্সের বাইরে থেকে অ্যালেকজান্ডার গলোভিন ক্রস দিয়েছিলেন। ইউরি দুর্দান্ত হেডে গোলরক্ষকের হাতের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এর মাধ্যমে এবারের আসরে রেকর্ড করলেন তিনি। এই বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা তো বটেই, বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথম শটেই গোলের মালিকও তিনি। জার্মানির ফিলিপ লাম ২০০৬ সালে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

এর পর রাশিয়া আরও ওপরে উঠে খেলতে থাকে। তবে ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের নায়ক অ্যালান জাগোয়েভ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। এই বিশ্বকাপে অনিশ্চিত হয়ে গেলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামেন ডেনিস শেরিশেভ। তিনি যে বাজিমাত করবেন এটা কে ভেবেছিল? ৪৩ মিনিটে বক্সে সৌদির ডিফেন্ডারের কাছ থেকে কৌশলে বল বাগিয়ে নিয়ে জালে পুড়ে দেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে এই প্রথম কেউ গোল করার কীর্তি গড়ল। রাশিয়া প্রথমার্ধ শেষে ২-০ তে এগিয়ে ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব ভালো সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে সেই তাইসার আলজাসাম দুর্দান্ত খেলেছেন। গোলের সুযোগও পেয়েছেন, বক্সে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সফল হতে পারেননি। রাশিয়া খেলায় পরিবর্তন আনেনি। যে ছন্দে প্রথম অর্ধ গেছে, একই ছন্দে দ্বিতীয় অর্ধে খেলতে থাকে তারা। ৭১ মিনিটে গোলোভিন আবারও ক্রস দেন। এবার আরতেম জেউবা রাশিয়াকে তৃতীয় গোলটি এনে দেন।

সৌদির এমন অসহায় পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত। এশিয়ার অন্যতম সেরা দল তারা। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+১) আবারো গোল করেন ডেনিশ শেরিশেভ। ৪ গোল দেওয়ার পর ক্ষুধা কমেনি রাশিয়ার। দুটি গোল করানোর পর আবারও জেগে উঠলেন গোলোভিন। রেফারি বাঁশিতে ফুক দেওয়ার আগ মুহূর্তে গোল করলেন (৯০+৫) তিনি। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে এতো গোল। এ যে বিশ্বাসই করা যায় না। তবে রাশিয়ার দুরন্ত সূচনা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here