ইসরায়েলকে নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মনোভাব সম্পর্কে সবারই জানা আছে। রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু মানুষ ইসরায়েলকে বা এর কোন নাগরিককে সহজ ভাবে নেয় না। এটি আর এখন কোন গোপন বিষয়ও নয়। ফলে ঝামেলা এড়াতে সুন্দরী প্রতিযোগিতা হোক আর অন্য যে কোন কিছুই হোক, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর সবাই এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সচেতন থাকেন সবসময়।

মিস ইসরায়েল এডার গান্ডেলসম্যানও তার বাইরে নন, আর সে কারণেই মিস ইরাক সারাহ আইডানের সঙ্গে দেখা হলেও কথা বলা নিয়ে টেনশনেই ছিলেন তিনি। কিন্তু দুদেশের বিরোধকে একপাশে রেখে সানন্দেই কথা হলো দুজনের।

সারাহ আইডান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে প্রথম দেখা হয় বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফটোশুট সেশনে এবং এরপরই আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। সে আমাকে তখনই বলেছিল যে, সে আমার সঙ্গে কথা বলতে কিছুটা ভয় পাচ্ছে, কারণ সে মিস ইসরায়েল আর আমি মিস ইরাক। আমি বললাম সেটা কেন? সে বললো কারণ আমাদের দুজনের দেশ।’

‘আমি বলেছিলাম ওটা কোন সমস্যা হতে পারে না, কারণ আমরা দুজনই অ্যাম্বাসেডর অব পিস বা শান্তির দূত।’ যেমনটা বলছিলেন সারাহ।

ততক্ষণে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুত্বেই পরিণত হয়েছিল। এরপরই তারা একসঙ্গে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেন। আর এ যুগে দুজনের ছবি তোলা মানেই তো সেলফি। মিস ইসরাইল বললেন, ‘আমরা বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমরা চেয়েছিলাম সবাই সেটি দেখুক।’

সারাহ আইডান ও এডার গান্ডেলসম্যানের সেই আলোচিত সেলফি
সারাহ আইডান ও এডার গান্ডেলসম্যানের সেই আলোচিত সেলফি

এর অন্তত ছমাস পরে ইসরাইলপন্থী একটি সংস্থা দ্য অ্যামেরিকান জুইশ কমিটির আমন্ত্রণে মিস ইরাক সারাহ যান ইসরায়েলে। সেখানে আবারো দুবন্ধুর মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। সেখানে গিয়ে তার মনে হয়েছে, ইসরায়েলের মানুষরা তো তাদেরই মতো।

সারাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘লোকজন আমার মতো এবং অনেকে আরবিতে কথা বলে। জেরুজালেম শহর আমাকে মনে করিয়ে দেয় দামেস্কের কথা। আমি তো সিরিয়ায় অনেকদিন বাস করেছিলাম। তাই সবকিছুই পরিচিত মনে হচ্ছিল। আমার নিজের মাটির মতোই।’

তবে সবকিছু এতো সহজ ছিল না। ইনসটাগ্রামে প্রকাশ হওয়া সেলফির জের ধরে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশই ছাড়তে হয় সারাহ আইডান ও তার পরিবারকে।

মিস ইরাক বলেন, ‌‘আমি ও আমার পরিবারের ব্যাপারে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলাম। তাই সবাইকে দেশই ছাড়তে হয়। আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু ছবিটি সরিয়ে ফেলিনি। মিস ইরাক অর্গানাইজেশন চেয়েছিল ছবিটি সরাতে কিন্তু আমি তা করিনি।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here