সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েকশ গ্রামে ঈদ উদযাপন হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা ঈদ উদযাপন করছেন। ওইসব গ্রামের মুসলমানরা অনেক বছর ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদ, শবে-বরাত, শবে-মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেন।

মুন্সীগঞ্জ : জেলার সাত গ্রামে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে শুক্রবার ঈদ উদযাপন হচ্ছে। গ্রামগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর ও বাঘাইকান্দির একাংশ। এখানকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ একদিন আগেই ঈদ আনন্দে মেতে উঠেন।

চাঁদপুর : ৪০ গ্রামে লক্ষাধিক অনুসারী একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করবেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের পীর বাড়ির সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌদিতে বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা যাওয়ায় শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। সে অনুযায়ী ঈদের নামাজসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাদ্রা দরবার শরিফের বর্তমান পীর মাওলানা আবু জোফার আবদুল হাই জানান, সাদ্রা দরবার শরিফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে ১৯২৮ সাল থেকে একদিন আগে এই প্রথা চালু করলেও এখন লক্ষাধিক মানুষ দেশের নিয়মের বাইরে অর্থাৎ একদিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন। সাদ্রা ছাড়াও জেলার ৪০টি গ্রামের ওই পীরের অনেক অনুসারী ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান এভাবেই উদযাপন করেন।

মাদারীপুর : চারটি উপজেলার ৩০ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদুল ফিতর। সুরেশ্বরী (রা.) অনুসারীরা জানান, সুরেশ্বর দারগা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা.)-এর অনুসারীরা ১৪৪ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযান করে আসছেন। দায়রা শরিফের প্রধান খাজা শাহ্ সূফী সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন এটি জানান।

শরীয়তপুর : সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরাই মীলত শরীয়তপুর জেলার চার উপজেলার ৩০টি গ্রামে শুক্রবার ঈদ উদযাপন করবেন। প্রায় শত বছর ধরে বাংলাদেশে একদিন আগে সুরেশ্বর পীরের ভক্ত ও তাদের মুরিদানরা একই নিয়মে ঈদ উৎসব পালন করে আসছেন।

পিরোজপুর : মঠবাড়িয়ার পাঁচ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের শুরেশ্বর পীরের অনুসারী চার শতাধিক পরিবার সারাদেশের একদিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন। এদিন ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ি এবং কচুবাড়িয়া গ্রামের ফরহাদ মেম্বারের বাড়িতে দুটি ঈদের জামাত হবে।

ভাইজোড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. শিপন খন্দকার জানান, দুটি ঈদের জামাতে পাঁচ গ্রামের শুরেশ্বর পীরের অনুসারী চার শতাধিক পরিবারের ১২০০ মুসল্লি অংশ নেবেন।

ঝিনাইদহ : জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফলশী, শিতালী, ভালকী, কুলবাড়ে ও পার্বতীপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ উদযাপন করেন। পীরের অনুসারী প্রায় দুশো পরিবার আজ ঈদ উদযাপন করবে শুক্রবার।

নারায়ণগঞ্জ : ফতুল্লার লামাপাড়ায় ঈদের নামাজ প্রতিবার। হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজ খানা মাদ্রাসায় ‘জাহাগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এদিন ঈদ করেন। গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পুরাতন ঢাকা, ডেমরা, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলা থেকে দুই শতাধিক মুসল্লি জামাতে অংশ নিতে ফতুল্লায় আসেন প্রতিবার।

এছাড়া দিনাজপুরের চার উপজেলায় ও রাজধানীর মালিবাগেও ঈদ উদযাপন হয় দেশের একদিন আগে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here