ঈদকে সামনে রেখে এখনই লোকাল থেকে দূরপাল্লার সব পরিবহনের ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সব ধরনের বাস, সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সিতে যাত্রীদের কাছে তিনগুণ, চারগুণ ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে। ফলে আজ সারাদিনই অনেক জায়গায় যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বসচা চোখে পড়েছে।

যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, এ যেন মগের মুল্লুক। সরকার বা কোনো সংস্থা নুণ্যনতম তদারকি করছে না। ফলে যাত্রী পরিবহনের নামে আসলে রাহাজানি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা থাকলেও গণপরিবহন সংকটে অনেক জায়গাতেই লেগে ছিল যাত্রীদের ভিড়। প্রায় প্রতিটি লোকাল বাসই সিটিংকরে ফেলার নামে তিন গুণ চার গুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছে। নয়তো তারা বাসে যাত্রীদের উঠতে দিচ্ছে না। হাতে গোণা দু’ একটি লোকাল বাস যাত্রী নিলেও তাতে ঠাসাঠাসি ভিড়ে কারণে যাত্রীদের প্রাণ ছিল ওষ্ঠাগত।

কথিত সিটিং সার্ভিস নামে বাসগুলোতেও ছিল নৈরাজ্য। ঈদ বকশিসের নামে সেখানেও গতকাল থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীর কল্যানপুর থেকে গুলিস্তানগামী এক যাত্রী জানান, সাধারণত সিটিং নামে বাসগুলোতে এই রুটে ২৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু আজ এক লাফে এই ভাড়া ৫০ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে কন্ডাকটরদের সঙ্গে কথাও বলা যাচ্ছে না। তারা নানা অপমানজনক কথাবার্তা বলছে।

গুলিস্তান থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরগামী এক যাত্রী জানান, তার কাছ থেকে বাসের ভাড়া হাঁকা হয়েছে ১০০ টাকা। দ্বিমত করায় কন্ডাকটররা বাসে উঠতে দেয়নি।

অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসগুলোতেও যাত্রীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াও ইচ্ছে মতো বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর কমলাপুর, গাবতলী, মহাখালী ও সদরঘাটের পাশাপাশি সায়েদাবাদেও নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তবে যাত্রীর ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকলেও গাড়িরই সহসা দেখা মিলছে না টার্মিনালে। এরমধ্যে দু’চারটি বাস ছাড়লেও তারা যাত্রীদের জিম্মি করে আদায় করছে দ্বিগুণেরও অনেক বেশি ভাড়া।

বাস সংকটে যেমন যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে, তেমনি ‘পকেট কাটা’ ভাড়া আদায়ে প্রকাশ করছেন ক্ষোভও। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো যাত্রী এ-কাউন্টার ও-কাউন্টার ঘুরছেন কাঙ্ক্ষিত বাসের টিকিট পেতে। কেউ একা, কেউবা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
আর বাস সংকটের এই সুযোগেই যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। নিরুপায় হয়ে যাত্রীরাও বাধ্য হচ্ছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধে।

ঢাকা থেকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট-দৌলতখানগামী জোনাকি পরিবহনের একটি গাড়ি টার্মিনালে ঢুকতেই হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা যায় যাত্রীদের। সেখানে যাত্রীদের বলা হয়, সিটের ভাড়া একদাম ৫০০, দাঁড়িয়ে গেলে ৩০০। মুহূর্তের মধ্যেই দেখা গেলো গাড়ি ভর্তি হয়ে যেতে। একই অবস্থা কুমিল্লাগামী তিশা, প্রাইম, এশিয়াসহ ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরগামী পরিবহনগুলোতেও।

এছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী এক যাত্রী জানান, বাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকরা আড়াইশ’ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা চাইছে। এছাড়া সাধারণত কুমিল্লার ভাড়া থাকে ১৫০-১৮০ টাকা, আর ফেনীর ভাড়া থাকে ২৩০-২৫০ টাকা। কিন্তু হেলপার ও কন্ডাকটররা সাফ বলে দিচ্ছেন, যেখানেই নামবেন ভাড়া একদাম ৫০০ টাকা।

সায়েদাবাদ থেকে খুলনাগামী বনফুল পরিবহন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারগামী সিডিএম ট্র্যাভেলস, সিলেটগামী মিতালী পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনও আদায় করছে দ্বিগুণ ভাড়া।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ঢাকা-কুমিল্লা রুটের তিশা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আবুল হাশেম বলেন, সারা রাস্তায় জ্যাম, গাড়ি চলে না। আবার ওদিক থেকে গাড়ি ঢাকায় আসছেও ফাঁকা। তাই ভাড়া নিচ্ছি ‘একটু বেশি’।

এ বিষয়ে বিআরটিএ’র সায়েদাবাদ ভিজিল্যান্স টিমের মোটরযান পরিদর্শক (এমভিআই) মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে আমার তদারকি করছি। যারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়ার নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, গন্তব্যের বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে না ছাড়ায় ভিড় বাড়ছে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের। কাউন্টারগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের পরে সাভারের নবীনগরে যানজটের কারণে কোনো বাসই নির্ধারিত সময়ে গাবতলী এসে পৌঁছাতে পারছে না। সে কারণে আমাদের গাড়িগুলো ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

তবে লোকাল বাস সার্ভিসের যাত্রীদের গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বাসস্ট্যান্ডে আসার পরেই পদ্মা লাইনসহ অন্য সব বাসে উঠার সুযোগ পাচ্ছেন। লোকাল বাসগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে ১শ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৩শ-৪শ পর্যন্ত। তবে ছাদে যাওয়ার জন্য গুনতে হচ্ছে ১শ টাকা ভাড়া।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here