এক মাস সিয়াম সাধনার পর খুশির বার্তা নিয়ে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আজ চাঁদ দেখা গেলে, কাল ঈদুল ফিতর। তাই ইতিমধ্যে সারাদেশে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ঈদ জামাত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়।

দেশের প্রধান ঈদ জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে রয়েছেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়ার মুহতামিম শায়খুল হাদিস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান।

আবহাওয়া বিরূপ থাকলে ঈদের প্রধান জামাত হবে ৯টায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে। এখানে বরাবরের মতো এবারও পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়, এরপর সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও সকাল পৌনে ১১টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, মুফতি মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী এবং তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ নামাজে ইমামতি করবেন।

এছাড়া সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত হবে সকাল ৮টায়। একইসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও অলি গলির মসজিদগুলোতেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। এবার হবে ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এখানে নামাজ শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসঊদ।

চট্টগ্রাম
চসিকের তত্ত্বাবধানে ঈদ-উল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯ টায়। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নীয়া আলেয়া মাদ্রাসা চট্টগ্রামের মহাদ্দিছ আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক।

বাকলিয়ায় চসিক স্টেডিয়ামে প্রথম ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়। লালদীঘি সিটি কর্পোরেশন শাহি জামে মসজিদে হবে সকাল সাড়ে ৮ টায়। জালালাবাদ আরেফিন নগর সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদের ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। একই সময়ে কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ ময়দান, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন) ঈদ জামাত হবে।

সিলেট
সিলেট নগরীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করবেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। এখানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজে অংশ নিবেন।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় দরগাহে হজরত শাহজালাল (রহ.) জামে মসজিদ ও শাহপরান (রহ.) জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বন্দরবাজার হাজী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, সকাল সাড়ে ৭টায়, সকাল সাড়ে ৮টায় এবং সকাল সাড়ে ৯টায়। সকাল ৮টায় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ও সাড়ে ৮টায় সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা
খুলনা নগরীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ১০টায়।

তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন জামে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল পৌনে ৮টায় ও নিউমার্কেটস্থ বায়তুন-নূর মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী
রাজশাহী নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে হজরত শাহ মখদুম (রহ.) ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন হজরত শাহ্ মখদুম (রহ.) জামিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি শাহাদাৎ আলী।

আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে, একই সময়ে হযরত শাহ্ মখদুম (রহ:) দরগা মসজিদে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবার ২৫টি ঈদগাহ প্রস্তুত করেছে। যেগুলোর বেশিরভাগেই সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় নওদাপাড়া আমচত্তর আহলে হাদীস মাঠে।

বরিশাল
বরিশাল নগরীতে ঈদের দিন প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। পাশাপাশি নগরের বেশ কয়েকটি মসজিদে দুটি করে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে নগরের বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে বরিশাল নগরীতে সর্বশেষ ঈদের জামাত সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদ, বায়তুল মোকারম জামে মসজিদ ও জামে এবায়েদুল্লাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

অপরদিকে চরমোনাই মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে সকাল ৯ টায়, নেছারাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি উজিরপুরের গুঠিয়ায় বায়তুল আমান জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের বৃহৎ জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৮টায় নগরীর জেলগেট জামে মসজিদ, কালিজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নূরিয়া হাইস্কুল ঈদগাহ ময়দান, মেডিকেল জামে মসজিদ ও বাস টার্মিনাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল সোয়া ৮টায় সাগরদী মাদরাসা জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নগরের ল’ কলেজ জামে মসজিদ, নথুল্লাবাদ জামে মসজিদ, ওয়াপদা জামে মসজিদ, পাওয়ার হাউজ জামে মসজিদ, সাগরদি বাজার জামে মসজিদ, গোরস্থান ঈদগাহ ময়দান ও জেলাস্কুল জামে সমজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here