বাসে আজ বেশ ভালোই হ্যারেসমেন্টের শিকার হতে যাচ্ছিলাম। সিট না থাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হুট করে একটা লোকের বেশ অসহনীয় ঘেঁষাঘেঁষি শুরু হল। বাসে দাঁড়ানোর মত আর কতটুকুই জায়গা থাকে? তবুও এপাশ থেকে ওপাশ হয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু নিস্তার নেই।

পরের স্টপেজ থেকে একঝাক ছেলে উঠল। দেখেই মনে হচ্ছিল কলেজে পড়ে ওরা। কিছুক্ষণ ওদের আলাপচারীতায় নিশ্চিত হলাম যে ওরা কলেজেই পড়ে।

সে যাইহোক, আমার মুভমেন্ট আর লোকটাকে সরে দাঁড়ানোর কথা শুনে ওরা আন্দাজ করতে পারছিল আমি খুব বিব্রত অবস্থায় আছি। কোনরকম কথা না বলে নিজেদের দাঁড়ানোর সুবিধার ভান ধরে ওরা লোকটাকে ঘিরে এমন অবস্থায় দাঁড়ালো যে আমি খেয়াল করে দেখলাম, আমার ডানে, বামে এবং পিছনে ওরাই দাঁড়িয়ে আছে।

আর ওই লোকটাকে দুই বন্ধুর মাঝে বেশ চেপে রেখেছে। ওদের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে বেশ রিলাক্স মনে হচ্ছিল। মেজাজটা ঠান্ডা হয়ে গেল।

আমার পেছনে সিট খালি হয়েছে আমি দেখিনি। কেউ একজন বসতে যাচ্ছিল অমনি ওরা একত্রে বলে উঠল, “আপুকে বসতে দেন”। এমনভাবে আপু বলল যেনো আমি ওদের মায়ের পেটের বোন। আমি শুধু চুপ করে দেখছিলাম সব। ওদের দিকে তাকিয়ে সিটে গিয়ে বসলাম।

এর কিছুক্ষণ পরেই আমার পাশের সিট খালি হলো। কিন্তু ওদের কেউ এসে বসছে না। মজার ব্যাপার হল, ওরা এতোবেশি প্রোটেকটিভ আচরণ করছিল যে অন্য কেউ এসে বসার সাহস করছেনা। লাস্টলি আমার কাছে দাঁড়ানো ছেলেটাকেই বললাম, “বসো, আমার সমস্যা হবেনা”। “না আপু, আপনি আরাম করে বসেন”। “আরেহ বসো”। পাশেরজন বলছে, “বসোস না ক্যান বেটা? ব..” এরপর ছেলেটা বসল।

এই বসা আর না বসা একই কথা। এমনভাবে বসছে যেনো একটু হলে পড়েই যাবে। আমি আর কিছু বলিনি। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছিলাম আর ওদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা করছিলাম মনে মনে। ভাড়া দেবার সময় ওদের ভাড়া সহ দিয়ে দিলাম।

হ্যারেসমেন্ট কারীরা যদি গালি শুনতে পারে, মাইর খেতে পারে সেখানে এমন সভ্য, শৃঙ্খল ছেলেগুলার জন্য এইটুকুতো করাই যায়। যদিও ওরা ভাড়া দিতে দিচ্ছিল না, অনেকটা জোর করেই দিয়ে দিলাম। ভালো থাকুক ভাইগুলো, ধরে রাখুক ওদের শিক্ষা।

লেখাটি এক তরুণীর ফেসবুক থেকে নেওয়া। তবে লেখিকার পরিচয় গোপন রাখা হলো।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here