শহরের অভিজাত এলাকায় তিন তলা বাড়ি। পুরোটাই গ্রিন শেল্টার গেস্ট হাউস। কিন্তু সেটার আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল দেহ ব্যবসা। অথচ পাশে থেকেও টের পাননি বাড়ির মালিক। মহল্লার লোকজনও সেটা গুনক্ষরে বুঝতে পারেননি। তাদের ভুল ভাঙে শুক্রবার ভোর রাতে যখন সিআইডি এবং যৌথ বাহিনী পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়।

গোয়েন্দাদের দাবি, কলকাতার সল্টলেকের বুকে সিএল ব্লকের ৬০ নম্বর বাড়িতে গ্রিন শেল্টার গেস্ট হাউসের আড়ালে বেশ কয়েকমাস ধরে এই কারবার চলছে। এর আগে একটি নাবালিকা পাচারের তদন্তে প্রথম উঠে আসে গেস্ট হাউসটির নাম। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই গেস্ট হাউসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেয়েদের নিয়ে আসা হয়।

মূলত চাকরি ও বিয়ের টোপ দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের নিয়ে আসে দলালরা। পরে তারা ওই মেয়েদের কলকাতার দালালদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কৃষ্ণা দেবনাথ নামে বারাসাতের এক নারী মূল দালালের কাজ করত। তার মাধ্যমেই মেয়েদের এই গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হয়। এখানে তাদের আটকে রেখে বাধ্য করা হতো দেহ ব্যবসায়। রাজি না হলে চলে মারধর।

তবে এই বাড়ির মালিক একজন নারী। তিনি কয়েক বছর আগে গেস্ট হাউসের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। মাস শেষে ভাড়া চলে যায়। তাই কখনো কোনো সন্দেহ করেননি। গেস্ট হাউজের আড়ালে যে এমন বাজে কাজ চলতো তাও টের পাননি।

এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সন্দীপ মিশ্র। পুরুলিয়ার বাসিন্দা এই ম্যানেজার দালালের কাজও করত। সেই সঙ্গে চক্রে সামিল ছিল, পূর্ব মেদিনীপুরের বাবুসোনা মাঝি, রাজু দাস এবং তুহিন বন্দ্যোপাধ্যায়। এরা প্রত্যেকেই গেস্টহাউসের কর্মী। তদন্তকারীরা কৃষ্ণা ছাড়াও তন্ময় সাহা নামে আরও একজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবারের হানায় এই ছয় জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছয় কিশোরীকেও উদ্ধার করেছে গোয়েন্দারা। তাদের সরকারি হোমে রাখা হচ্ছে। আর সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী থেকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও এই মধুচক্রে যাতায়াত করতেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here