কিছুদিন প্রেমের পর ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে সম্প্রতি মুহিব্বুল ইসলাম শাওনের সঙ্গে বিয়ে হয় সুবর্ণা নাহার সাথীর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো বিয়ের তিনদিন যেতে না যেতেই শাওনের কাছে ডিভোর্স চায় ওই তরুণী। আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে পৃথক থাকার সিদ্ধান্ত নেন শাওন। এমনকি সাথীর দেওয়া স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বর্ণনানুযায়ী ওই ঠিকানায় কেউ থাকেই না। এরপরই বের হতে থাকে ওই তরুণীর প্রতারণার ছক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ে করাই সাথীর নেশা ও পেশা। নিজের সৌন্দর্যকে পুঁজি করে সহজ সরল তরুণদের একের পর এক ফাঁদে ফেলে। সব কিছু হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান কাজ। আর এ কাজ করতে গিয়ে সে কখনও সাথী আবার কথনও চন্দনা পরিচয় দেয়। সর্বশেষ তার প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর পথে শাওন।

এ বিষয়ে মুহিব্বুল ইসলাম শাওন বলেন, সাথীর সঙ্গে অল্পদিনের পরিচয়। আর সেটা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একপর্যায়ে সে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। আমিও সরল বিশ্বাসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে ৫নং শেখেরটেক কাজি অফিসে গিয়ে তাকে বিয়ে করি। এ সময় নগদ এবং গয়না বাবদ দেনমোহরের ৫ লাখ টাকা তাকে পরিশোধ করি।

তিনি বলেন, দাম্পত্য জীবনের মাত্র তিন দিনের মাথায় সে আমার কাছে ডিভোর্স চায়। পরে তার আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি পৃথক থাকার সিদ্ধান্ত নেই। এরমধ্যে তার দেওয়া স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই ঠিকানায় কেউই থাকে না। বিষয়টা তখন আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।

ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রণজিত সমঝোতার জন্য সাথী এবং শাওনকে থানায় ডেকে পাঠান। সেখানে ওই সুন্দরীর বিষয়ে আরও গোপন তথ্য বেরিয়ে আসে। বিয়ের আগে তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী পরিচয় দিলেও পরে জানান উচ্চ মাধ্যমিক পাস। সেখানেও গলদ, কোন কলেজ থেকে পাস করেছেন জানতে চাইলে তার কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

এদিকে বিয়ের কাবিনে সুবর্ণা নাহার সাথী বাবার নাম দেন সিরাজুল ইসলাম ও মা জোছনা বেগম। ঠিকানা দেন- গ্রাম : চুড়ামনকাটি, ডাকঘর : চুড়ামনকাটি, উপজেলা ও জেলা : যশোর। তবে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শুকুর আলী জানান, এই ঠিকানায় ওই নামের কেউ থাকে না।

এরপর শাওন আবার সাথীকে নিয়ে আদাবর থানায় আসেন। পুলিশের সামনেই সব খুলে বলেন। তখন এসআই রণজিতকে সাথী জানান, মিরপুরে তার ফুফু আছেন সেখানে যাবেন। সেখানেই সব মিমাংসা হবে। পুলিশের কথায় শাওন তখন সাথীকে নিয়ে মিরপুরে গেলে ১০ নম্বর গোলচত্বরে পৌঁছে স্বামীর মোবাইল নিয়ে কৌশলে কেটে পরে। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শাওন সন্ধ্যায় মিরপুর থানায়ও একটি জিডি করেন।

জানা গেছে, এর আগেও সাথী ভিন্ন পরিচয়ে একাধিকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে। তাদের সঙ্গেও শাওনের মতো করে। কিন্তু কেউই মানসম্মানের ভয়ে পুলিশের কাছে যাননি।

সাথীর প্রতারণার শিকার এমনই একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই ভাবে এই মেয়ে আমাকে ফাঁদে ফেলেছিল। তবে মানসম্মানের ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি। এমনকি থানায়ও যাইনি। শুধু আমিই নই, জানতে পেরেছি ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে নামক অস্ত্র প্রয়োগ করে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই তরুণী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here