রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গত শনিবার অজ্ঞাত তরুণীকে জোর করে গাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে মাহমুদুল হক ওরফে রনির (৩২) বিরুদ্ধে। তখন চলন্ত গাড়ি থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক এবং জনতা তাকে নামিয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশের কাছে সমর্পণ করে। সেসময় ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরালও হয়।

পরদিন ওই ঘটনায় নির্যাতিতা তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আর সেই মালায় রনিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। বর্তমানে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

তবে পুরো ঘটনাকে সাজানো উল্লেখ করে রনি ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করেছেন তার স্ত্রী। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর সেই অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন প্রতিবেশীদের দিকে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল কারণ উদঘাটনে কয়েকজন তরুণ কথা বলেন রনির স্ত্রীর সঙ্গে। ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ওকে (রনি) ফাঁসানোর জন্য, আমাদের মেরে ফেলার জন্য; পুরো পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য কেউ এই ষড়যন্ত্র করছে। পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ‘রনি তার মায়ের কথামত দেশের বাড়ি থেকে নতুন চাল আনতে যাচ্ছিল। তার সঙ্গে আমারও যাওয়া কথা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেতে পারিনি।’ এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যে তার স্ত্রীকে নিয়ে বের হতে চাচ্ছিল সে কীভাবে গাড়িতে অন্য নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করবেন?’

প্রায় ছয় মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় রনির স্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে গাড়ি থেকে বের করে এনে বিবস্ত্র করা হয়। ড্রাইভারের পরনেও লুঙ্গি ছিল। এমনকি যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় সেখানে শুরুতে মেয়ে দুটিকে দেখা যায়নি। মেয়েগুলোকে পরে আনা হয়েছে। মেয়েগুলো যদি গাড়িতেই থাকতো তাহলে গাড়িতে কেন আগে থেকে ভিডিও করা হল না? গাড়িতে মেয়েগুলো ছিলই না, আর আমার স্বামীও উলঙ্গ ছিল না গাড়িতে।’

তিনি দাবি করেন, ‘ওই দিন বাসা থেকে বের হওয়ার পর বাসার কাছেই কিছু মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে রনির বাকবিতণ্ডা হয়। তারা আমাদের প্রতিবেশী।’ তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি রনির স্ত্রী। এমনকি ওই মোটরসাইকেল চালকদের কাছে রনি টাকা পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বললেন, ‘সেই টাকার জন্যই পরিকল্পিত এই নাটক সাজানো হয়েছে। যদি এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হতো তাহলে সবাই তাকে (রনি) নিয়েই থাকতো। তাকে তো পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমাদেরকে নিয়ে (পরিবারের সদস্যদের) কেন কথা বলা হচ্ছে? কেন আমার ছবি ছড়ানো হচ্ছে? এর কারণ আমাদের পরিবারটিকেই ছোট করা হচ্ছে।’

স্বামীর প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী (রনি) মাদক কী তাই জানে না। সে কখনও মাদক বা মদ নেয়নি। আর আমাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ চমৎকার। আমাদের মধ্যে কোন ঝামেলা নাই। আমাদের এলাকায় এসে দেখতে পারেন। আমাদের ফেসবুক আইডিতে দেখবেন আমাদের ভিতরে কতো মিল মহব্বত! সে যদি ভালো না হতো তাহলে তো তার সঙ্গে নয়-দশ বছর যাবৎ সংসার করতে পারতাম না। আমার স্বামী আমাকে ছাড়া ঘরে বাইরে কোথাও রাত কাটায় না।’

ভিডিও বার্তায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন রনির স্ত্রী। সেই সঙ্গে সবার কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার স্বামীকে গালি দেওয়ার আগে একটু চিন্তা করে দেখেন যে, আপনারা কী করছেন এগুলো? পরে যদি প্রমাণ হয় যে রনি সৎ এবং নির্দোষ ছিল, তাহলে কী আপনারা তার সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবেন? সে কী আর কখনও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে? আপনারা রনির সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকেও হেয় করছেন। আমাদের বাচ্চারা এতে করে স্কুলে যেতে পারবে না। আমার স্বামী যদি খারাপ কিছু করে তাহলে তদন্ত করে তার শাস্তি হোক। কিন্তু যারা অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করেছে তাদেরও শাস্তি হোক।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here