আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তথাকথিত চিত্রনায়িকা সাদিয়া আফরিন। গত ১৪ জুন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে যাওয়ার পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি।

বিনোদন বিচিত্রা সেরা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০১১ সালে মিডিয়ায় আসেন সাদিয়া আফরিন। মডেলিং উপস্থাপনা প্রভৃতিতে কাজ করে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন ডেয়ারিং লাভার ছবিতে আইটেম গানের মাধ্যমে। জিএম সৈকতের ধারাবাহিক নাটক ‘চিত্রজগৎ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটপর্দায় যাত্রা শুরু সাদিয়ার।

বিটিভিতে ‘সুরের সুরভী’ নামে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেন সাদিয়া। আইটেম গানে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা করলেও নায়িকা হিসেবে তার কোন চলচ্চিত্র এখনো মুক্তি পায়নি। তবে অচেনা হৃদয়সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে আইটেম গানে খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে তিনি বেশ সমালোচিত হন। এরপর ২০১৭ সালে ঘোষণা দেন, আর কোন আইটেম গানে পারফর্ম করবেন না।

চিত্রনায়িকা সাদিয়া আফরিন
চিত্রনায়িকা সাদিয়া আফরিন

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এই অভিনেত্রী। বাংলাদেশি একটি এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডার সাইটে দেখা গেল সাদিয়া আফরিনের ছবি! তবে সেখানে সাদিয়া আফরিনের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে তার নাম ‘নিনা’, বয়স ২৪। পুলিশ হেফাজতে থাকবার কারণে এ বিষয়ে অবশ্য সাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ‘চলচ্চিত্রের নাম ব্যাবহার করে অনেকেই এখন নিজেদের দাম বাড়িয়েছেন। তাদের মাঝে সাদিয়াও একজন। তিনি অনৈতিক কাজ করেন কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিভিন্ন আড্ডায় তার এসব কাজে সম্পৃক্ত থাকার কথা বহুবার শুনেছি।’

যদিও ২০১৫ সালে দুই প্রযোজক আকাশ, রনি ও পরিচালক এমকে জামানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সিনেমা থেকে সাদিয়া বাদ দেওয়া হয় বলে খবর রটে। ‘বিষাক্ত ইয়াবা’ নামের সিনেমার দুই প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগটি অবশ্য করেছিলেন অভিনেত্রী নিজেই।

তারও আগে ২০১৩ সালে মিজানুর রহমান খানের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় চিত্রনায়িকা সাদিয়া আফরিনের। সেই সূত্রে সাদিয়া জানান যে, তার স্বামী বিদ্যুৎ কুমার সাহা ওরফে সৌরভ সিনেমা প্রযোজনা করেন। তিনি মিজানুর রহমানকে অফার দেন, আমাদের নির্মিত ছবিতে বিনিয়োগ করলে ব্যাপক লাভবান হবেন।

বিশ্বস্ততা ও সিনেমার নানান লাভের দিক দেখিয়ে সাদিয়া ও তার স্বামী তাদের সিনেমায় তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে মিজানুর রহমানকে প্রলুব্ধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজানুর রহমান পর্যায়ক্রমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট আড়াই কোটি টাকা তাদের দেন।

কিন্তু তারা সিনেমা না বানিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে চিত্রনায়িকা সাদিয়া আফরিন সাফ জানিয়ে দেন- ‘টাকা দিতে পারবো না, আপনি যা পারেন করেন।’ উপায় না দেখে মিজানুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সে মামলাতেই স্বামীসহ চিত্রনা‌য়িকা সা‌দিয়া আফ‌রিন গ্রেপ্তার হন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here