‘হত্যা মিশনের সদস্য ছিল ২০ থেকে ২৫ জন। অবস্থান নেয় তিনটি স্পটে। প্রথম দলটি মোকলেছের খুব কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে চোখে গুল ছিটিয়ে দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার দেন মোকলেছ। তখন তার মুখের মধ্যেও গুল ঢেলে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখে। এরপর দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে পায়ের রগ কাটে। ভারি লাঠি দিয়ে পেটায়। নিস্তেজ হয়ে পড়লে মোকলেছের দুই পায়ে দড়ি বেঁধে প্রায় দেড় কিলোমিটার পিচঢালাই রাস্তার ওপর থেকে টেনে নিয়ে যায়।’

এটি সিনেমার কোনো গল্প নয়, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের কৃষক মোকলেছ হাওলাদারকে (৫৫) প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবেই হত্যা করা হয়। আর সেই হত্যার বর্ণনা দেন নিহতের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৪৫)। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন।

জমিজমা ও ঈদগাহ্ মাঠ নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই রোববার বেলা ১১টার দিকে পূর্ব চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের বটতলা পুলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার এই হত্যাকাণ্ডের বর্নণা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী স্ত্রী তাছলিমা, দুই মেয়ে মাজেদা ও রাবেয়া। তারা জানান, প্রকাশ্যে রাস্তায় মোকলেছের ওপর ঘণ্টাব্যাপী নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। খবর পেয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঘাতকদের হাত থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।

মেয়ে মাজেদা বেগম বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা বাবাকে পিটিয়ে দুই পা ও একটি হাত গুড়াগুড়া করে ফেলে। আমরা খবর পেয়ে ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। বাবাকে তখন অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে খুনিরা। আমরা তিন মা-মেয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাবাকে ছাড়িয়ে রাখি। দুর্বৃত্তরা আমারদেরও জখম করে। এক সময় তারা মায়ের পরনের কাপড়ও খুলে নেয়। তারপরও আমরা বাবাকে ছাড়িনি। দীর্ঘ ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খুনিরা বিভিন্ন দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পালিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পথচারীসহ ওই এলাকার বাসিন্দারা এই নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখলেও ভয়ে কেউই বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।’

থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর কবির জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তদন্তও শুরু করেছে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here