মৃত্যুর এক বছর আগে রিচার্ড ব্র্যানসন মহাকাশে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্টিফেন হকিংকে। তিনি তখন বললেন, ‘যাব, যাব। নিশ্চয়ই যাব। তৈরি হয়েই আছি যাওয়ার জন্য।’ কিন্তু পারেননি। তবে নিজের প্রিয়তম মহাজাগতিক বস্তু কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলে যাচ্ছে তার সেই ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর- ‘আমি স্টিফেন হকিং বলছি’। সঙ্গে আরো বিশেষ কিছু বার্তা সুরে বেঁধে পাঠানো হচ্ছে।

তবে বললেই তো আর কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি যাওয়া যায় না। মহাকাশযান বা কারো পক্ষেই তা সম্ভবও নয়। কারণ কাছে গেলেই প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় বলের টানে তাকে গিলে খাবে কৃষ্ণগহ্বর। তাই প্রয়াত বিজ্ঞানীর কণ্ঠস্বর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকা একটি কৃষ্ণগহ্বরের উদ্দেশে ছুড়ে দেবে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)। শব্দ তো তরঙ্গই। সেই তরঙ্গকে নিজের জোরালো মহাকর্ষীয় বলের টানে টেনে নেবে ব্ল্যাক হোল।

গত শতকের শেষ দিকে হকিংই প্রথম অঙ্ক কষে দেখিয়েছিলেন, ‘ব্ল্যাক হোলস আর নট সো ব্ল্যাক’। অর্থাৎ ব্ল্যাক হোল মোটেই পুরোপুরি কালো নয়। সেও আলো উগরে দেয়। ব্ল্যাক হোল থেকেও বেরিয়ে আসে আলো।

এদিকে কৃষ্ণগহ্বরে কণ্ঠ পাঠানো প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীর মেয়ে লুসি হকিং বলেন, ‘এটা খুব সুন্দর একটা প্রতীকী উদ্যোগ। বাবার অস্তিত্ব এবং তার মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছার মধ্যে এই উদ্যোগ একটা সেতুবন্ধ তৈরি করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রহের সবচেয়ে কাছের ব্ল্যাক হোলেই যাচ্ছে বাবার ফেলে যাওয়া কণ্ঠস্বর। ওই ব্ল্যাক হোলের নাম ১এ-০৬২০-০০।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here