একটা সময় পার্কেই জমতো সব ডেটিং। বাদাম, বুট, ঝালমুড়ি খেয়েই সময় পার করত প্রেমিক-প্রেমিকারা। তবে হালে পাল্টেছে ডেটিংয়ের ধরন। আবার বিনোদন স্পট বা ডেটিং স্পটগুলোতেও আনাগোনা বেড়েছে মাদকসেবীদের। তাই ইদানীং ফ্ল্যাটমুখী ডেটিংয়ে আগ্রহ বেড়েছে।

নিরাপত্তাকর্মীদের হয়রানি ও লোকলজ্জা থেকে আড়াল থাকতেই এমনটা করছে বলে জানিয়েছে অনেক জুটি। সমাজবিজ্ঞানীরা অবশ্য বলেছেন অন্যকথা, সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে ইন্টারনেটের ভয়াবহতা ও মাদকের ভয়াল ছোবলেই তরুণ-তরুণীরা বেছে নিয়েছে এমন পথ।

রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাইলি ও মজনু (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম বছর থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় ও সখ্যতা। এথন তারা শেষ বর্ষে পড়ছেন।

দুজনই অভিজাত ঘরের সন্তান। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘুরে বেড়াতেন পার্কে, রিসোর্টে ও রেস্তরাঁয়। তাদের বন্ধুরাও বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দিত। তবে তাদেরই এক বন্ধু নিজের প্রেমিকাকে নিয়ে প্রায়ই উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন। কাটাতো বেশ অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। তিনি তার অন্য বন্ধুদের খুব মজা করে এসব কথা শেয়ার করতেন।

তাই মজনুরও ইচ্ছে হয় লাইলিকে নিয়ে ফ্ল্যাট ডেটিংয়ের। সেই বন্ধুর সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে প্রেমিকাকে রাজি করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন তিনি। লাইলিও অবশেষে রাজি হন। তারপরই শুরু হয় নতুন মিশন।

-হ্যালো ভাই, আসা যাবে?
-কবে আসবেন?
-কালকে সকালে। কোনো অসুবিধা হবে না তো।
-আরে না রে ভাই। ট্যাকেল দেওয়ার জন্য মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করি। আর অ্যাপার্টমেন্ট বাসা। এখানে বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে কাজ করি। গেস্ট হয়ে আসবেন। কে কী বলবে? নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

এভাবেই কথা হয় মজনু আর ফ্ল্যাট ডেটিংয়ের সার্ভিসম্যানের এক সদস্যের মধ্যে। দরকষাকষির একপর্যায়ে নিশ্চিত হয় অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর ব্যবস্থা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here