রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর গাড়ির চাপায় সেলিম ব্যাপারী (৪৫) নামে পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষা করার সময় নিহত হন সেলিম।

নিহত সেলিমের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি মহাখালী এলাকায় একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার কাফরুল থানায় নিহতের মেয়ের জামাই আরিফ ভূঁইয়া মামলা করেছেন।

আরিফ ভূঁইয়া বলেন, আমার শ্বশুর মঙ্গলবার রাতে বাসায় যাওয়ার জন্য মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। ওই সময় বেপরোয়া গতিতে ঢাকা মেট্রো ১৩-৭৬৫৫ নম্বরের গাড়িটি এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মারা যান। আমার শ্বশুর ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর গাড়িটি কিছু দূর এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গাড়িটি আবার পিছিয়ে এসে তার মাথার ওপর চাকা উঠিয়ে দেয়। তখন মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে মারা যান তিনি।

আরিফ জানান, ঘটনার পর ফ্লাইওভার থেকে তার শ্বশুরের লাশ ও সেখান পড়ে থাকা গাড়ির নম্বর প্লেট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে থানায় গিয়ে গাড়ির নম্বর উল্লেখ করে তিনি মামলা করেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গাড়িটি নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর। আমার শ্বশুরকে চাপা দেওয়ার সময় গাড়িটি তার ছেলে সাবাব চৌধুরী চালাচ্ছিল।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘গাড়িটি আমাদেরই। কিন্তু তবে আমার ছেলে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিল না। আমাদের পাঁচজন গাড়িচালক আছেন। তাদের মধ্যে কেউ একজন গাড়িটি চালাচ্ছিল। আমি এখন নোয়াখালীতে অবস্থান করছি, তাই বলতে পারছি না গাড়িটি কে চালাচ্ছিল।’

কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা গাড়ির নম্বর (ঢাকা মেট্রো ১৩-৭৬৫৫) পেয়েছি। বিআরটিএতে এই নম্বর পাঠিয়ে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য পাব, এর পর আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

ওসি জানান, নিহত সেলিম ভূঁইয়ার লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে কাফরুল থানায় আনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here