বাড়িতে দুরন্ত বাচ্চা ? কোথাও ঘুরতে নিয়ে গেলেই চোখের নিমেষে পালিয়ে যায় এদিক ওদিক ! খেলার ছলে সবসময়ই কোনো না কোনো কাণ্ড ঘটিয়ে বসে ? সাবধান ! যথাসম্ভব চোখে চোখে রাখুন শিশুকে । নয়তো অবহেলার আঙুল উঠতে পারে আপনার দিকে। হয়তো বাচ্চার দুষ্টুমির কারণে দিতে হতে পারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১১ কোটি টাকা । অঙ্কটা শুনে চমকে উঠলেন তো !

সম্প্রতি এমন অভিজ্ঞতারই শিকার হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের এক দম্পতি । ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন বাবা-মা । কমিউনিটি হলের প্রবেশপথেই রাখা ছিল এক অমূল্য ভাস্কর্য । বিয়েবাড়িতে তো আর মুঠোবন্দি করে রাখা যায় না । তাই একটু স্বাধীন ভাবে ছেড়ে রেখেছিলেন বিচ্ছু ছেলেকে । আর ছাড়া পেয়েই কখন যে সে ছেলে চলে গিয়েছিল এই ভাস্কর্যের কাছে । কাচের মূর্তিকে দেখে জড়িয়ে ধরার সাধ হয় খুদের । আর তাতেই ঘটে বিপত্তি । ভার সহ্য করতে না পেরে মূর্তিসহ মাটিতে উল্টে পড়ে দস্যি । আওয়াজ ও ছেলের কান্না শুনে ছুটে আসেন দম্পতি । এসে দেখেন ছেলে সেভাবে চোট না পেলেও মূর্তি ততক্ষণে চুরমার । কাচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে মেঝেতে ।

সেদিনের মতো ছেলেকে বকাঝকা করে বাড়ি ফিরে এলেও ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি । কিছুদিন বাদেই বীমা সংস্থা থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয় ওই দম্পতিকে । যেখানে ওই মূর্তি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে জরিমানা ধার্য করা হয় । অঙ্কটা ১৩২০০ মার্কিন ডলার । বীমা কোম্পানির তরফে বাবা মায়ের দিকে সন্তানকে সামলে না রাখার অভিযোগও আনা হয় । ভাস্কর্যটির শিল্পী বিল লায়ন্স জানান, মূর্তিটি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর সেটিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয় । মূর্তিটি বানাতে তার প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে । কাচের টুকরো সূক্ষ্ম ভাবে কেটে মুর্তিটি বানানো হয় । তিনি তার সময়ের মূল্য ফেরত চান ।

বীমা কোম্পানির নোটিস প্রসঙ্গে শিশুর মা জানান , খুদে সবে প্রিস্কুল পাশ করেছে । সে ইচ্ছাকৃত ভাবে মূর্তিটি ভাঙেনি । হয়তো মূর্তিটি ভাল লেগেছিল, তাই সে সেটি জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল । পাশাপাশি তিনি এই হলের কর্তৃপক্ষের দিকে গাফিলতি অভিযোগ তোলেন । যুক্তি দেন, এত মূল্যবান একটি ভাস্কর্য এভাবে অরক্ষিত ভাবে কেন রাখা ছিল । এটি ছিল মূল রাস্তার মধ্যিখানে রাখা । সে অর্থে কোনো পৃথক ঘরের ব্যবস্থা ছিল না বা কোনো সাবধানতামূলক ব্যানারও ছিল না আশেপাশে । যে কারোর ধাক্কাতেই মূর্তিটি ভাঙতে পারত । ওই বীমা সংস্থার পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওই পরিবারের বীমা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের আর্জি জানানো হয় । তবে ছেলের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে একেবারেই খেসারত দিতে নারাজ ওই দম্পতি ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here