মামাত ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে এসেছিলেন বাপ্পি। কিন্তু মেয়েকে দেখে নিজের জন্যই বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। যেহেতু ছেলে বিএসসি শিক্ষক, তাই মেয়ের পরিবারও প্রস্তাবটি লুফে নেয়। চলে টাকা লেনদেনসহ বাড়িতে আসা-যাওয়া।

কনের ছোট বোনকেও একদিন নিজের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান বাপ্পি। দেখানো হয় তাদের ছাদ দেওয়া পাকাবাড়ি। যথারীতি আদর আপ্যায়ন। জানান, তার মা সরকারি চাকরি করতেন। এখন অবসরে আছেন। সম্প্রতি হজ করে এসেছেন।

এরপর শুরু হয় বিয়ের আলোচনা। আর বিয়ের যৌতুক চূড়ান্ত হয় ৮ লাখ টাকা। দফায় দফায় নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলসহ দুই লক্ষাধিক টাকা আগেই দেওয়া হয়। বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয় ঈদের পঞ্চম দিন। কিন্তু ছেলে ফোন রিসিভ না করায় মেয়ের বাবার সন্দেহ হয়। খবর নিতে ছেলের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল রাজবাড়ী এলাকায় যান তিনি। তবে ওই নামে কোনো লোককেই আর পাননি।

মেয়ের পরিবার বুঝতে পারে তার দেওয়া নাম ও পেশা ভুয়া। বাপ্পি নামে এলাকায় তাকে কেউ চেনে না। তাই চেহারার বর্ণনা দিলে জানা যায় ওই ছেলের আসল নাম আখিরুল ওরফে আফিরুল। তিনি কোনো বিএসসি শিক্ষকও নন। সে একজন প্রতারক। অনেক কৌশল করে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

কখনো গানের শিক্ষক, কখনো বিএসসি শিক্ষক, কখনো কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আবার কখনো কোরআনের হাফেজ সেজে প্রতারণা করেন। প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার নেশা। সর্বশেষ বিয়ে করতে গিয়েই ধরা খান।

পরে তিনি জানান, তার আসল নাম মো. আখিরুল ইসলাম। বয়স ৩৫ বছরের কাছাকাছি। বাবা আবিদ হাসান আগেই মারা গেছেন। রানীশংকৈল উপজেলার জসিয়া (রাজবাড়ী) এলাকায় তার বাড়ি। বর্তমানে তার অবিভাবক মা আরিফা বেগম। তবে মেয়ের পরিবারকে দেখানো বাড়িটি তার নয়। আর মা সাজানো হয়েছিল ওই বাড়ির এক নারীকে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চ‌ল্যের সৃষ্টি করেছে। মেয়ের ক্ষিপ্ত বাবা সেই প্রতারককে বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ সময় আখিরুলের আসল মা ছেলেকে দেখতে এলে তাকেও আটক করে মেয়ের পরিবার।

তাকে আটকের পর আরও তিন থেকে চারজন আখিরুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে আসেন। তারা জানান, এই যুবক আরও ৫ থেকে ৬টি বিয়ে করেছেন। আর ওই এলাকার শ্রমিকনেতা আনোয়ার জানান, ২০ থেকে ২১ তরুণীর সঙ্গে এই যুবক এরকম প্রতারণা করেছে।

প্রতারক আখিরুল বলেন, ‘টাকা নিয়েছি সত্যি। যদি তারা চায় তাহলে আমার বিয়ে করতে কোনো আপত্তি নেই। না হলে কষ্ট করে হলেও তাদের টাকা আমি ফেরত দিয়ে দেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এতোগুলো নয় আগে মাত্র একটি বিয়ে করেছি। আর একটি বিয়ে দিতে চেয়েছিল ৭ মাস পূর্বে। তখন ঢাকা পালিয়ে গিয়েলাম।’

মেয়ের বাবা আবেদুর বলেন, ‘সে তার মায়ের অপারেশনের কথা বলে টাকা নিয়েছে। তার চাকরির কথা বলেও টাকা নিয়েছে। আসলে সবই ভুয়া। এই প্রতারকের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। টাকাগুলো ফেরত পেলেই তাকে ছেড়ে দেব।’

প্রতারণায় ফেঁসে যাওয়া মেয়ে বলেন, ‘সে আমাকে তার মামাত ভাইয়ের জন্য দেখতে এসেছিল। তার মামাত ভাই এসএসসি পাস। আমি বিএসএসে পড়ি। তবে সে নাকি বিএসসি শিক্ষক, সে আমাকে বিয়ে করবে মর্মে প্রস্তাব দেয়। আমি তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। কিন্তু পরে জানতে পারি সে প্রতারক।’

এদিকে দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমার গ্রামের। মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে প্রতারক ছেলেটি যে টাকা নিয়েছে তা ফেরত দিলেই মাকেসহ তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here