রাশিয়া বিশ্বকাপে যেন আত্মঘাতী গোলের প্রতিযোগিতা চলছে। গ্রুপ পর্বের ১৭ ম্যাচেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে পাঁচ গোলে। বিশ্বকাপের এক টুর্নামেন্টে মোট আত্মঘাতী গোলের বিচারে এটা দ্বিতীয়। পুরো আসরের খেলা তো পড়েই আছে। সর্বমোট ছয় আত্মঘাতী গোল নিয়ে এখন পর্যন্ত রেকর্ডের পাতায় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ।

আর ২০১৪ সালের পুরো ব্রাজিল বিশ্বকাপে মোট আত্মঘাতী গোল হয়েছিল মাত্র পাঁচটি। তাই শেষ পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপকে আত্মঘাতী গোলের আসর হিসেবে চিহ্নিত করতে হয় কিনা, কে জানে!

সর্বশেষ আত্মঘাতী গোল হয় রাশিয়া ও মিসরের ম্যাচে। মঙ্গলবারের এই খেলায় মিসরের ডিফেন্ডার আহমেদ ফাতির আত্মঘাতী গোলে ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যায় রাশিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ চেড়েছে স্বাগতিকরা।

এদিনেই সেনেগাল বনাম পোল্যান্ড ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে আফ্রিকান দলটির প্রথম গোল আসে প্রতিপক্ষের ফুটবলার সিয়োনেকের আত্মঘাতী গোল থেকে।

এ আসরের প্রথম আত্মঘাতী গোল ছিল ইরান ও মরক্কোর ম্যাচে। ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে মরক্কোর ফরোয়ার্ড আজিজি বোয়াদুজ ভুল করে নিজেদের জালে গোল জড়ান। এহসান হাজিজি সাফির ফ্রি কিক থেকে ওই আত্মঘাতী গোলটি করেন তিনি। বিশ্বকাপের এই তৃতীয় ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জয় পায় ইরান।

এদিকে গত শনিবার ক্রোয়েশিয়ার দুটি গোলের একটি প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়ার ফুটবলার এটেবোর আত্মঘাতী। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে মদ্রিচের কর্নার থেকে হেড করে বল গোলে পাঠানোর চেষ্টা করেন ক্রোয়েশিয়ার মানজুকিচকে। এই ফরোয়ার্ডের নিচু হেড অবশ্য গোলপোস্ট মিস করেছিল; কিন্তু নাইজেরিয়ান ফুটবলার এটেবোর পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে। আর এতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ২-০তে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।

এর আগে কাজানে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে গ্রিজমান এগিয়ে দেন ফরাসি দলকে। আর ফ্রান্সের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা পল পোগবা। যদিও ফরাসি মিডফিল্ডারের গোল নিয়ে সংশয় ছিল ফিফার। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ এই নিয়ামক সংস্থা পরে ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিজেদের ভুল শুধরে নেয়। সেটিকে আজিজের আত্মঘাতী গোল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পোগবার গোল নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন তার ক্লাব কোচ মোরিনহো। তার মতে, গোলটির পেছনে পোগবার যতটা না কৃতিত্ব আছে, তার থেকে অনেক বেশি দায়ী অস্ট্রেলীয় ডিফেন্ডার আজিজি বেহিচের ফাইনাল টাচ। কারণ পোগবার চিপ আজিজের পায়ে লেগেই অজি গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে প্রতিহত হয় ক্রসবারে। তবে মাটিতে ড্রপ করার সময় গোললাইন পার হয়ে যায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here