রাশিয়া বিশ্বকাপে শুরুটা করেছিলেন পর্তুগাল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তারপর একে একে ১১টি পেনাল্টির বাঁশি বেজেছে। আর এতে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চসংখ্যক পেনাল্টির রেকর্ডটা ভাঙার পথে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এবারের আসরে প্রথম পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সহজ গোল করতে না পারার পর তার সঙ্গে রোনালদোর তুলনা যেন আরও জোরেশোরে শুরু করেছেন ভক্তরা।

পেনাল্টি মানেই বিতর্ক। এতে কারও বুকে খেলে যায় আনন্দের ঢেউ আবার প্রতিপক্ষে নেমে আসে কালো আঁধার। বিচারক যেমন তার রায়ে দুই পক্ষকে খুশি করতে পারেন না, তেমনি ম্যাচ পরিচলনাকারী সেই রেফারিও। এবার থেকে অবশ্য অভিষেক ঘটেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির। মাঠের রেফারির সঙ্গে এটিও ভূমিকা রাখছে পেনাল্টি কিংবা গোলের সিদ্ধান্তে। তাতে কিছুটা দায় এড়াতে পারছেন রক্তে-মাংসের মানুষটি।

১৯৮২ সালে প্রথম। সেবার ফ্রান্স ও জার্মানির সেই অবিস্মরণীয় সেমিফাইনালটির ফল নির্ধারিত হয়েছিল পেনাল্টির সাহায্য নিয়ে। তখন থেকেই বিশ্বকাপে পেনাল্টির পথচলা। এরপর অনেক চমকপ্রদ ঘটনা ও অঘটনের জন্ম দিয়ে চলেছে এই পেনাল্টি। জন্ম দিয়েছে নানা রহস্যও, যা ফুটবলকে করেছে সমৃদ্ধ ও রোমাঞ্চিত।

১৬ জুনকে অবশ্য পেনাল্টি দিবস ঘোষণার জন্য জোর দাবি জানানো উচিত। কারণ ওইদিন চার ম্যাচে পাঁচ পেনাল্টি দেখেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি পেনাল্টি হয়েছিল মাত্র একবারই। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ২৪ জুন, ওইদিন ছয়টি পেনাল্টির রায় দিয়েছিলেন রেফারিরা।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো স্পেনের বিপক্ষে প্রথম গোলটা করেছিলেন পেনাল্টি থেকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে এটিই প্রথম পেনাল্টি। তার হ্যাট্রিকেই হার ম্যাচে ড্র পায় পর্তুগিজরা। অন্যদিকে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল মিসের যন্ত্রণাটা এখনও আর্জেন্টিনা ভক্তদের পোড়াচ্ছে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে সেই পেনাল্টি মিসের খেসারতও দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসি যখন পেনাল্টিটি নেন তখন খেলা ১-১ গোলে ছিল সমতা। গোল পেলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যেত। কিন্তু আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক হানেস হালডর্সন সহজেই মেসির শটটি আটকিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, পুরো খেলায় মেসি গোল লক্ষ্য করে মোট ১১টি শট নিয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি।

মেসি ছাড়া এবার পেনাল্টি মিস করেছেন কেবল পেরুর ক্রিস্টিয়ান কেভা। ডেনমার্কের বিপক্ষে সেই ম্যাচে কেভা পেনাল্টি মিস না করলে ম্যাচটা ড্র করতে পারত তার দেশ। ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে প্রথম ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। সুইডেন-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছে সুইডিশরা। আর তাতেই ১-০ গোলে জয় পেয়েছে তারা।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলেও, মিসর তারকা মোহাম্মদ সালাহর করা গোল মন কেড়েছে এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের। স্বাগতিক রাশিয়া তাদের জালে ৩টি গোল জড়ালেও শেষ দিকে পেনাল্টি পায় মিসর। সেটি আর মিস করেননি তারকা ফুটবলার সালাহ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ পেনাল্টির দেখা পায় অস্ট্রেলিয়া। ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে রুখে দিল ডেনমার্ককে। গোলটি করেন জেডিনাক।

এখন শুধু অপেক্ষার বিষয়, আত্মঘাতী গোলের মত পেনাল্টির রেকর্ডটাও নিজেদের মত করে নেয় কি না রাশিয়া বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পেনাল্টির সংখ্যা ১৬টি, তাও ১৯৯০ সালে। আর এবার প্রথম রাউন্ড শেষ না হতেই দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here