এমপিপুত্র সাবাব চৌধুরীর বিলাসবহুল অডি-৭ মডেলের প্রাইভেটকার চাপায় পথচারী সেলিম ব্যাপারী (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার চলছে দরকষাকষি। ৩০ লাখ টাকা পেলেই অভিযোগ তুলে নেবেন বাদী। তবে আসামিপক্ষ চায় ২০ লাখ দিতে।

বিষয়টির মধ্যস্ততা করছেন নিহত সেলিম ব্যাপারী যে কোম্পানির গাড়ি চালাতেন সেই নাওয়ার প্রোপার্টিজের মালিকপক্ষ। তবে গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা তোলার বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। কথা বলতে রাজি হননি বাদী কিংবা বিবাদী পক্ষের কেউই।

জানা গেছে, নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইমরান হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে এমপি একরামুল করিমের ফোনে কথা হয়। তখন এমপি নিজেই সমঝোতার প্রস্তাব দেন। বিষটি এগিয়ে নিতে চারজন লোককেও ইমরান হোসেনের ডিওএইচএসের অফিসে (বাড়ি-৪৬৫, ফোর-১, রোড-৮, বারিধারা) পাঠান তিনি। নিহতের পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩০ লাখ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই সমঝোতা বৈঠকে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলি, সাবাব চৌধুরী বা পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকলেও নিহত সেলিম ব্যাপারীর স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। বৈঠক চলার সময় দফায় দফায় এমপির সঙ্গে ফোন কথা হয় তার প্রতিনিধিদের।

ফোনেই এমপি বাদিপক্ষকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘আমার প্রতি আপনারা বিশ্বাস রাখেন, ওই পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া হবে। শুধু এই টাকাই নয়, ভবিষ্যতে তাদের আরও দেখভাল করা হবে। সমঝোতার মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে টাকা দেওয়া হবে।’

তবে মামলাটি তুলে নেওয়া ছাড়াও তার (এমপি) পরিবারের কারও জড়িত থাকার কথা বলা যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দেন এমপি। এতে মৌন সম্মতি জানিয়েছে বাদিপক্ষ। ওই বৈঠকের পরও দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা কথা হয়।

সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত সেলিম ব্যাপারীর জামাতা ও মামলার বাদি আরিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা এখন চরম হতাশার মধ্যে আছি ভাই, পরে কথা বলি?’ কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়েই তিনি লাইনটি কেটে দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছেও সমঝোতার বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে মামলার ভবিষ্যৎ কী জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাফরুল থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, বাদী ও বিবাদী যদি সমঝোতায় পৌঁছান তাহলে সেই কাগজপত্রসহ মামলা আদালতে পাঠানো হবে। সে ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই সব। মামলা মিটমাটের বিষয়টি একান্তই বাদীর বিষয়। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ জানান, রাজধানীর মহাখালী ফাইওভারে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়িটি চিহ্নিত করা হয়েছে। কামরুন্নাহার শিউলির নামে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করা বলে বিআরটিএর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গাড়িটি সে রাতে কে চালাচ্ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাড়িটিও জব্দ করা যায়নি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here