মামুন আর আতিক আর্জেন্টিনার প্রচণ্ড ভক্ত। বিশেষ করে মেসি নামেই অজ্ঞান এই দুই বন্ধু। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রিয় খেলোয়াড়কে জ্বলে উঠার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। মামুন টিভির সামনে। খেলা শুরু হতেই তার ভেতরে অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করছে। তবে অন্য রুমে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলেন আতিক। খেলা দেখার জন্য তাকে ডাকতেই বললেন, আরে জমবে তো সেকেন্ড হাফে (দ্বিতীয়ার্ধে), তখন দেখবো!

হয়েছেও তাই। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দুইয়েকটা সুযোগ এলেও কোনো দলের খেলোয়াড়রাই তা কাজে লাগাতে পারেননি। কেবল এ ম্যাচটাই নয়, রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, প্রথমার্ধ অমিমাংসিত থাকলেও ফল এসেছে দ্বিতীয়ার্ধেই। যা অনেকটা বোতলের তলার মধুর মত, পরিমানে অল্প কিন্তু মিষ্টি অধিক!

এবারের আসরের প্রথম দিনের ম্যাচেও শেষের মধু খেয়েছে স্বাগতিক রাশিয়া। প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে দুই গোল জড়ালেও খেলাটা হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। এই বুঝি সব শোধ করে দেবে সৌদিরা। কিন্তু রাশিয়ার রক্ষণভাগের ব্যুহ কিছুতেই ভাঙতে পারেনি তারা। বিরতির পর অবশ্য পুরো নিয়ন্ত্রণই নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।

তবে বিশ্বকাপটা জমে যায় দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই। প্রথমার্ধে মিসরের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে কিছুটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন উরুগুয়ের ফুটবলাররা। পরে তা সামলে নিয়ে উল্টো আক্রমণ বাড়ায়। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত অবশ্য ডিয়াগো গডিনের দলকে আটকে রেখেছিল মুহাম্মদ সালাহর মিশর। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে বিশ্বকাপে জয়ের খাতা খুলতে ব্যর্থ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি।

সেইন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যাচে ইরানের কাছে ১-০ গোলে পরাজয় বরণ করে মরক্কো। অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি গোলশন্য ড্র হতে যাচ্ছে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফ্রি-কিক পায় ইরান। ডি-বক্সের মধ্য থেকে ফ্রি-কিকটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেড করে নিজেদের জালেই বল জড়ান মরোক্কর আজিজ বৌহাদ্দোজ। খুশিতে মাঠ ছাড়ে ইরান। মরক্কোর কপালে তখন রাজ্যের ভাঁজ।

এখন পর্যন্ত সেরা খেলাটা দেখিয়েছেন পর্তুগাল ও স্পেনের খেলোয়াড়রাই। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন আরও একবার। করলেন এই বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক। প্রথমে পিছিয়ে থেকেও স্পেন সুন্দর ফুটবলের মালা গেঁথে দুইদুবার এগিয়ে যায়। একা রোনালদোর কারণে সান্ত্বনার ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই ম্যাচটিও উত্তেজনা ছড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। একইভাবে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া, পেরু ও ডেনমার্কের ম্যাচটিও বিরতির পর মিমাংসিত হয়।

উত্তেজনা ছিল সার্বিয়া ও গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কোস্টারিকার ম্যাচটিতেও। সমানে সমান লড়াই করে প্রথমার্ধ ০-০ স্কোরলাইন নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় সার্বিয়া। ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচেও বিরতির পর সুন্দর ফুটবল দেখেন ক্রীড়াপ্রেমিরা। ২০ মিটেই অসাধারণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিল তারকা কৌতিনহো। বক্সের একেবারে মুখ থেকে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে কাঁপিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের জাল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয় সুইসরা। শেষ পর্যন্ত খেলার ৫০তম মিনিটে অসাধারণ এক হেডে সমতায়ও ফেরান স্টিভেন জুবের। এরপর আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ হলেও কেউই আর গোলের মুখ দেখতে পারেনি।

দাগ কেটে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেনের ম্যাচটিও। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির কাছ থেকে ৬৪ মিনিটে পেনাল্টির সুযোগ পায় সুইডেন। পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন সুইডিস অধিনায়ক আন্দ্রেস গ্রানকভিস্ট। একইভাবে বেলজিয়াম ও পানামা, তিউনিসিয়া ও ইংল্যান্ড, জাপান ও কলম্বিয়া, রাশিয়া ও মিসর, স্পেন ও ইরানের খেলাও জমে উঠে বিরতির পর।

প্রথমার্ধে গোল হয়নি আর্জেন্টিা ও ক্রোয়েশিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচেও। আর বিরতির পর তো লেখা হলো নতুন এক ইতিহাস। নিজনি নভগোরোদে বৃহস্পতিবার রাতে ৩-০ গোলে ক্রোয়েশিয়ার কাছে লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের। আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলি ক্যাবাইয়েরোর মারাত্মক ভুলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে ব্যবধান বাড়ান লুকা মদ্রিচ। যোগ করা সময়ে বড় জয় নিশ্চিত করেন ইভান রাকিতিচ।

ব্রাজিল আর কোস্টারিকার ম্যাচটিও নিঃশ্বাস ফেলেছে শেষ মুহূর্তে। প্রথমার্ধে বেশকিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি নেইমাররা। দ্বিতীয়ার্ধও কেটেছে একই ভাবে। অতিরিক্ত সময়ে কুতিনহো ও নেইমারের গোলে কোস্টারিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ানরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here