ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার উননেছা শিউলি। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ একজন সফল নারী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তবে তিনি নিজেকে পুরোপুরি সফল না ভাবলেও এগিয়ে যেতে চান বহুদূর। ব্যক্তি জীবনে বড় বোন আশরাফুন্নেছাকেই আদর্শ মনে করেন। কেননা বোনের প্রবল আগ্রহ আর জেদের কারণেই শিউলি আজ বিসিএস ক্যাডার।

ইউএনও শিউলি জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার দিয়াকূল গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবা ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন সামান্য কর্মচারী। শোলাকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় থেকে প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে শিউলি ভর্তি হন কিশোরগঞ্জ এসভি গভ. গার্লস হাইস্কুলে। পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে কোনো ধরনের প্রাইভেট না পড়েই ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাস করেন। একাদশে ভর্তি হন গুরুদয়াল কলেজে।

বাবা সংসার চালাতে পারছিলেন না, তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় কিশোরী শিউলিকে। কিন্তু বিয়ের পর তার পড়ালেখায় বাধ সাধেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পাশাপাশি চলে মানসিক নির্যাতন। তবে জীবনে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। একদিন সাহস করে সেই স্বপ্নের কথা শ্বশুরকে জানালে তিনি পড়ালেখার অনুমতি দেন।

পরবর্তীতে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর তাকে আর পড়ালেখা করতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মা ও বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরই মধ্যে শিউলি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তবে লেখাপড়া ছাড়েননি।

মা ও বড় বোনের চেষ্টায় তিনি ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন কলেজে অর্থনীতিতে স্নাতকে ভর্তি হন। তবে সন্তানের দেখাশোনা করে পড়ালেখার জন্য সময় বের করতে না পারায় ছয় মাস পর তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন। টানাটানির সংসারে টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার উননেছা শিউলিকে সংবর্ধনা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার উননেছা শিউলিকে সংবর্ধনা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে অংশ নেন ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায়। ২৪তম ও ২৫তম বিসিএসর প্রিলি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভাইভা বোর্ডে গিয়ে আটকে যান। তবে শিউলির বোন আশরাফুন্নেছার জেদ ছিল বোনকে বিসিএস ক্যাডার বানাবেনই। পরবর্তীতে ২৭তমতে সফল হন। প্রশাসনিক ক্যাডারে নিয়োগ পেয়ে রাঙামাটিতে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন।

শিউলি বলেন, ‘পৃথিবীতে যারাই সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন, তাদের সবাইকে নানা ধরনের বাধা-প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রেই বাধা আসে সবথেকে বেশি। তবে আমার বোন আশরাফুন্নেছা না চাইলে কখনোই বিসিএস ক্যাডার হতে পারতাম না। সঙ্গে মায়ের সহযোগিতা তো ছিলই।’

আত্মনির্ভরশীল না হয়ে মেয়েদের বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন মেয়েরাও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠলে কোনো মেয়েকেই বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নীপিড়ন সহ্য করতে হবে না।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here