কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকের টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যাকারী সেই মাদকাসক্ত সোহেল রানাকে (২৮) গলাকেটে হত্যা করেছে তার ভাই মেহেদী হাসান (২২)।

এ ঘটনার ৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ হত্যাকারীকে সনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান।

এদিকে ছোট ভাই হাফেজ এমরান বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে মেহেদী হাসানকে আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় পৌর এলাকার মরিচাকান্দা গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে সোহেল মিয়ার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের মেজো ভাই মেহেদী হাসানকে আটক করে। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

মেহেদী হাসান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নেশাগ্রস্থ সোহেল পরিবারের শান্তি, সম্মান এমনকি নষ্ট করেছেন। এছাড়াও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি আমাদের বাবাকেও নেশার টাকার জন্য হত্যা করেছেন। সোহেলকে মাদক আইনে এবং বাবাকে হত্যার অভিযোগে করাগারেও পাঠানো হয়। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে বেড়িয়ে আবারও নেশার জগতে চলে যান।

বাবার অবর্তমানে তিনি ডেকোরেটরের ব্যবসা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন মেহেদী। সম্প্রতি সোহেলের নেশার টাকার চাপে মেহেদী হাসানও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি নেশার টাকার জন্য বাবা ইউনুছ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন সোহেল রানা। সম্প্রতি তার বড়ভাই সুমন মিয়াও (৩০) মাদক সেবনের দায়ে কারাগারে রয়েছেন।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদকের কারণে একটি সুন্দর পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here