২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সেমি ফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারের ক্ষত এখনো রক্তাক্ত করে ব্রাজিলকে। দেশটির ভক্তদেরও এ নিয়ে শুনতে হয় ‘সেভেন আপ’ খোটা। তাই পারতপক্ষে এবারও শক্তিশালী জার্মানির সামনে পড়তে চাইছিলেন না নেইমার-কস্তারা। কিন্তু ভাগ্যে পরিহাসের মতো এবারও দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা হয়ে যেতে পারে ব্রাজিল ও জার্মানির। যদিও এখনো কিছুই নিশ্চিত নয়, তারপরও এই দুই ফুটবল শক্তির মহারণ অসম্ভব নয়।

কিন্তু কীভাবে? আসলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল-জার্মানি লড়াইয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে ই ও এফ গ্রুপের সমীকরণ। ই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হবে এফ গ্রুপের রানার্সআপ দল। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি এখন ‘এফ’ গ্রুপে দ্বিতীয়। তাদের সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মেক্সিকো। শেষ ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। তাই শক্তি ও ফুটবল ক্ষমতার বিচারে ধরেই নেওয়া যায় এই ম্যাচটা জিতবে জার্মানিই।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জার্মানদের জয় আর মেক্সিকো যদি সুইডেনকে হারাতে পারে, তাহলেই ‘এফ’গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে মেক্সিকো আর রানার্স আপ জার্মানি। সে ক্ষেত্রে সুইডেনের সঙ্গে মেক্সিকোর ড্র করলেও চলবে। কারণ তখন মেক্সিকোর পয়েন্ট হবে ৭ আর জার্মানির ৬।

অন্যদিকে ‘ই’ গ্রুপের সমীকরণ, যেখানে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সুইজারল্যান্ডের সংগ্রহও তাদের সমান দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। সুইসদের (‍+১) সঙ্গে ব্রাজিল (‍+২) এগিয়ে গোল ব্যবধানে। এই গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে সার্বিয়া ও কোস্টারিকা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ব্রাজিলকে তাঁদের শেষ ম্যাচটা জিততে হবে। ঝামেলা হলো, সুইসরাও তাঁদের শেষ ম্যাচটা জিতলে ব্রাজিল ও তাঁদের পয়েন্ট সমান হবে। সে ক্ষেত্রে ব্রাজিল গোলব্যবধানে সুইসদের চেয়ে এগিয়ে থাকলে তাঁরাই হবে ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড তাদের শেষ ম্যাচে ড্র করলেও সমীকরণটা মিলবে। সে ক্ষেত্রে গোলব্যবধানে সুইসদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে নেইমারদের। তখনই কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের মনে জেগে উঠবে সেই সেভেন আপের ক্ষত।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here