নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরীর গাড়িচাপায় সেলিম ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। নিহত সেলিম ব্যাপারীর পরিবারকে এককালীন ২০ লাখ টাকা ডিপোজিট ও মাসিক ২০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে উভয়পক্ষ এ সমঝোতায় এসেছে। সেলিম ব্যাপারীর বোন জামাই আব্দুল আলিম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেলিম ব্যাপারী দুই যুগের বেশি সময় ধরে নাওয়ার প্রোপার্টিজের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। সেই নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, ‘এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ফোন করে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। এমপি চান, নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বিনিময়ে তারা কাফরুল থানায় করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। ফোনে কথা বলার পর তাদের বারিধারার অফিসে এমপি লোক পাঠিয়েছিলেন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনার জন্য। পরদিন শুক্রবার সেলিম ব্যাপারীর পরিবারকে তারা নগদ ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। সেলিমের স্ত্রী চায়না ব্যাপারীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ওই টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট রাখা হবে।’

এমপিপুত্র শাবাব

সেলিম ব্যাপারীর বোন জামাই আব্দুল আলিম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে এমপি সাহেবের লোকজন ইমরান স্যারের বারিধারার অফিসে আমার হাতে নগদ ২০ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া সংসার চালানোর খরচ হিসেবে এমপির পরিবার প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন।’

এর আগে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য এমপির পক্ষ থেকে টাকার বিনিময়ে আপসের প্রস্তাব আসে নিহতের পরিবারের কাছে। সেলিম ব্যাপারীর পরিবারের ভাষ্য, অন্তত মাস চলার মতো কিছু টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়ার বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাদের।

১৯ জুন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনার এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি দ্রুত সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ফ্ল্যাটে ঢুকে যায়। গাড়িটিকে অনুসরণ করেন একজন মোটরসাইকেল ও আরেকজন প্রাইভেটকার আরোহী। পরে ন্যাম ফ্ল্যাট ও এর আশপাশের সিকিউরিটি গার্ডরা জানান গাড়িটি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here