রাস্তায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন পথচারীরা। কয়েকঘণ্টা পরও তার পরিচয় জানা যায়নি। অন্যদিকে থানায় স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করাতে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর অমিত দ্বিবেদী। পরে এ ঘটনায় নিখিল হান্ডা নামে আরেক মেজরকে রোববার উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রোববার দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় উদ্ধার হয় মেজর অমিত দ্বিবেদীর স্ত্রী শৈলজা দ্বিবেদীর (৩৫) মৃতদেহ। গলাকাটা অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল দেহটি। দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, শৈলজাকে প্রথমে খুন করা হয়, তারপর খুনির গাড়ি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। কিংবা রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর অন্যকোনো গাড়ি মৃতদেহের ওপর দিয়ে গেছে। কারণ শৈলজার দেহের ওপর দিয়ে গাড়ি যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

শৈলজার সঙ্গে নিখিল হান্ডার পরিচয় হয়েছিল মূলত স্বামীর কর্মস্থল নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে। কিছুদিন আগে অমিত দ্বিবেদী দিল্লিতে ট্রেনিংয়ের জন্য চলে আসেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সেনা কোয়ার্টারেই স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

তাই শৈলজা হত্যার সন্দেহের তালিকায় ছিলেন নিখিল হান্ডা। কারণ শনিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে সেনা হাসপাতালের বাইরে তার সঙ্গেই সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল শৈলজাকে। ওই হাসপাতালে গোড়ালির ফিজিওথেরাপি করতে গত চারদিন ধরে আসছিলেন শৈলজা। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে বাইরে সিসিটিভি ফুটেজে ওই দুজনকে দেখা গেছে। তাদের একটি গাড়িতেও বসতে দেখা যায়।

মেজরের স্ত্রী খুনে সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মেজরের স্ত্রী খুনে সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সকালের পর থেকে নিখিল হান্ডার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার ফোনও সুইচ অফ ছিল। যে গাড়িতে দুজনকে বসতে দেখা গেছে, সেই গাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শৈলজার মোবাইল ফোন এবং কল রেকর্ড থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ১০টায় সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে ফিজিওথেরাপি করাতে হাসপাতালে যান শৈলজা। গাড়িচালক পরে তাকে আনতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শৈলজা ওইদিন ফিজিওথেরাপি করাতে আসেনই নি। গাড়িচালক ফিরে এসে অমিত দ্বিবেদীকে সব বলেন। এরপরই স্ত্রীর খোঁজ শুরু করেন অমিত।

রাস্তায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন পথচারীরা। কয়েকঘণ্টা পরও তার পরিচয় জানা যায়নি। শেষপর্যন্ত নারাইনা থানায় স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করাতে গিয়ে শৈলজার দেহ শনাক্ত করেন অমিত দ্বিবেদী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here