ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদ্রাসায় ক্লাসে পড়ানোর সময় পাঠের অংশ খাতায় তুলছিল না অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরিফ বিল্লাহ আরাফাত। কেন খাতায় লেখে না তা জিজ্ঞেস করতেই শিক্ষক ফয়জুল বারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে আরাফাত। তাই সেদিন চড় দিয়ে ছাত্রকে শাসন করেছিলেন ফয়জুল বারী। কিন্তু ওই ঘটনা মনে পুষে রেখে যে আরাফাত প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেবে তা হয়তো তিনি ভাবতেই পারেননি।

সে ঘটনার জেরেই গতকাল রোববার ফয়জুল বারীর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ও সহপাঠী সানোয়ারুল বারী জীবনকে রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে আরাফাত ও তার সঙ্গীরা।

গুরুতর আহত জীবনকে বর্তমানে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জীবন জানায়, তার বাবা ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার ডিএস কামিল মাদ্রসার শিক্ষক। সেও ওই মাদ্রায় পড়ে। ক্লাসে তার বাবা আরাফাতকে শাসন করার পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে আরাফাত ও তার সঙ্গীরা তাকে রাস্তায় দাঁড় করায়। এক পর্যায়ে আরাফাত ও তার সঙ্গীরা রড দিয়ে তাকে পেটায় এবং মাথায় আঘাত করে। ফলে সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে শিক্ষক ফয়জুল বারী বলেন, গত রমজানের আগে ক্লাসে বেয়াদবি করায় আরাফাতকে তিনি সামান্য শাসন করেছিলেন। তার জন্য সে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা দেখে তিনি হতবাক। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আরাফাত ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি মাদ্রাসার বাইরের। তারপরও তিনি হাসপাতালে জীবনকে দেখতে গিয়েছিলেন। তবে তাকে বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি আহম্মেদ কবীর হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here