রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মরোক্কোর বিরুদ্ধে নিজেদের শেষ ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে ‘ব্রি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে স্পেন। তবে মহানাটকীয়তার এই ম্যাচে মরোক্কোর খেলোয়াড়রা ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশদের স্নায়ুর সত্যিকারের পরীক্ষা নিয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্পেন যখন হারের শঙ্কায়, তখন যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে মহানাটকীয় এক গোল পেল দলটি। ফলে ২-২ গোলে ড্র হয় ম্যাচ।

সোমবার কালিনিনগ্রাদে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হয় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি। স্পেনের খেলার চিরায়ত যে ধরণ, সেই ছোট ছোট পাসে বল নিজেদের দখলে রেখে এদিনও খেলা শুরু করে দলটি। তবে মরোক্কানদের আসল শক্তি যেন ফুটে উঠেলো এদিন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া নিশ্চিত হয়েছে আগে। তাতে কি? একটা জয় নিয়ে ফেরা যেতেই পারে। তাই পাল্টা আক্রমণে দারুণ এক মরক্কোর দেখা মিললো। যাদের আক্রমণগুলো এমনই ধরালো ছিল যে বারবার কেঁপে যাচ্ছিল স্পেন রক্ষণ।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোলও আদায় করে নেয় মরক্কো। মধ্যমাঠে রামোস ও ইনেয়াস্তার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ঢুকে খালিদ বউতায়িব। স্পেন রক্ষণ তখন পুরো ফাঁকা। গোলরক্ষক ডেভিড দি গিয়াকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন খালিদ। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো।

তবে স্পেন সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি। ১৯ মিনিটে ইনিয়েস্তার পাস থেকে ইস্কো গোল করে সমতা এনে দেন দলকে। বা-দিক দিয় আক্রমণে উঠে স্পেন। কস্তার বাড়ানো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় মরক্কো ডিফেন্স। দারুণ গতিতে সেই বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডানপাশে ইস্কোর উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেন ইনিয়েস্তা। ইস্কো গোল করে সমতা এনে দেন দলকে। শেষ ১৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পেনের হয়ে ১২ গোলে অবদান রাখলেন ইস্কো। নিজে করলেন ১০টি। ২ টি করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে।

২৫ মিনিটে ফের এগিয়ে যেতে পারত মরক্কো। খালিদ বউতায়িবের প্রচেষ্টা রুখে দেন স্পেন গোলরক্ষক ডেভিড দি গিয়া। সুযোগ হারায় মরক্কো। ৩৭ মিনিটে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে সার্জিও বুসকেটসের প্রচেষ্টা বারের উপর দিয়ে চলে যায়। স্পেন তখন আধিপত্য রেখে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধেও যোগ করা সময়েও দারুণ এক আক্রমণ রচনা করেন ইনিয়েস্তা। কিন্তু সেটি সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন কস্তা। ফলে ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর খেলার ধার বাড়ে। ৫৪ মিনিটে যে ফের এগিয়ে যেতে পারেনি তারা এ জন্য শুধু ভাগ্যকেই দায় দিতে পারে দলটি। নর্দিন আমরাবাতের ডি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া কিকটি বারে লেগে ফিরে। ৬২ মিনিটে ইস্কোর প্রচেষ্টা গোল লাইন থেকে হেড করে ক্লিয়ার করেন মরক্কোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রোমান সেইস। পরের মিনিটে পিকের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

তবে ৮১ মিনিটে দারুণ এক গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইউসেফ এন-নেসিরি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে তার দারুণ হেডে জালে জড়ায় বল। স্পেন গোলরক্ষক শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন যেন। করার কিছুই ছিল না তার।

গোল হজম করে স্পেন মরিয়া হয়ে উঠে। অন্যমাঠে তখন ইরান-পর্তুগাল নাটক চলছে। যেখানে ইরান জিতলে বা ড্র করলে আর স্পেন হেরে গেছে ভয় থাকছে তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ভয় জয় হলো তাদের যোগ করা সমেয়। ইয়াগো আসপাস গোল করে সমতা এনে দেন দলকে। সেই গোলও আবার এলো নাটকের পর। সহকারী রেফারি অফসাইড দিয়েছিলেন। ভিডিওতে দেখে রেফারে গোলের সিদ্ধান্ত দেন। স্পেনের হয়ে নিজের শেষ ৮ ম্যাচে ৮ গোলে অবদান রাখলেন আসপাস।

গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় পর্বে উঠলো স্পেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর যা প্রথম। ২০১০ গ্রুপ অন্তত একটিতে হারলেও চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে অবশ্য গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here